২৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৮৪-[১৯] - গুনাহের শাস্তির পর জান্নাতে প্রবেশ
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
গুনাহের শাস্তির পর আল্লাহর রহমতে জান্নাত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৮৪-[১৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৮৪-[১৯]
وَعَن أنس أَن النَّبِي الله صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَيُصِيبَنَّ أَقْوَامًا سَفْعٌ مِنَ النَّارِ بِذُنُوبٍ أَصَابُوهَا عُقُوبَةً ثُمَّ يُدْخِلُهُمُ اللَّهُ الْجَنَّةَ بِفَضْلِهِ وَرَحْمَتِهِ فَيُقَالُ لَهُمُ: الجهنميون. رَوَاهُ البُخَارِيّ رواہ البخاری (6559) ۔ (صَحِيح)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : কিছু সংখ্যক লোক তাদের কৃত গুনাহের কারণে শাস্তিরূপ জাহান্নামের আগুনে জ্বলে যাবে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাঁর রহমাত ও দয়ায় তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। তবে সেখানে তাদেরকে 'জাহান্নামী' বলে ডাকা হবে।
সহীহ: বুখারী ৭৪৫০, মুসনাদে আহমাদ ১২৫১১, আবূ ইয়া'লা ২৯৭৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৮৪-[১৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এমন একদল মানুষের কথা বলা হয়েছে, যারা গুনাহের কারণে জাহান্নামের আগুনে শাস্তি পাবে। শাস্তি তাদের অপরাধের ফল হিসেবে আসবে। এরপর আল্লাহ তাঁর ফযল ও রহমতে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, সেখানে তাদেরকে জাহান্নামী বলা হবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, গুনাহকে হালকা করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ গুনাহের কারণে শাস্তি হতে পারে। একই সাথে আল্লাহর দয়া ও রহমতের বিষয়টিও স্পষ্ট। এই হাদিস শাফা‘আত, জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং গুনাহের পরিণতি নিয়ে ভাবার সুযোগ দেয়। তবে এতে কোনোভাবেই গুনাহকে নিরাপদ ভাবার শিক্ষা নেই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহের কারণে শাস্তি হতে পারে, তাই গুনাহকে হালকা ভাবা উচিত নয়।
- আল্লাহর রহমত বান্দার মুক্তির কারণ হতে পারে।
- শাস্তির পরও আল্লাহ যাকে চান জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারেন।
- মুক্তির আশা থাকলেও গুনাহ থেকে বাঁচার চেষ্টা জরুরি।
