২৮/৪. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৮৫-[২০] - মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর শাফা‘আতে মুক্তি

হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ

কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

নবী صلى الله عليه وسلم-এর শাফা‘আতে জাহান্নাম থেকে মুক্তি

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৮৫-[২০]

وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَخْرُجُ أَقْوَامٌ مِنَ النَّارِ بِشَفَاعَةِ مُحَمَّدٍ فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ وَيُسَمَّوْنَ الْجَهَنَّمِيِّينَ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ وَفِي رِوَايَةٍ: «يَخْرُجُ قَوْمٌ مِنْ أُمَّتِي مِنَ النَّارِ بِشَفَاعَتِي يُسَمَّوْنَ الْجَهَنَّمِيِّينَ» رواہ البخاری (6566) و الترمذی (2600) ۔ (صَحِيح)

‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : একদল মানুষকে মুহাম্মাদ (ﷺ) এর শাফাআতে জাহান্নাম থেকে বের করা হবে। অতঃপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের নাম রাখা হবে জাহান্নামী। অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি (ﷺ) বলেছেন : আমার উম্মতের একদল লোক আমার সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করবে। তাদেরকে জাহান্নামী নামে ডাকা হবে।

সহীহ: বুখারী ৬৫৬৬, ইবনু মাজাহ ৪৩১৫, সহীহুল জামি' ৫৩৬২, আবূ ইয়া'লা ৩২০৬।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৮৫-[২০]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর শাফা‘আতের কথা এসেছে। তিনি বলেছেন, একদল মানুষ তাঁর শাফা‘আতে জাহান্নাম থেকে বের হবে। এরপর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাদেরকে জাহান্নামী নামে ডাকা হবে। আরেক বর্ণনায় এসেছে, তাঁর উম্মতের একদল লোক তাঁর সুপারিশে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে। এই হাদিসে শাফা‘আত শব্দটি মূল বিষয়। তবে এর শিক্ষা গুনাহকে সহজ ভাবা নয়। বরং এতে বোঝা যায়, নবী صلى الله عليه وسلم-এর মর্যাদা এবং আল্লাহর অনুমতিতে শাফা‘আতের বড় গুরুত্ব আছে। যে মানুষ আল্লাহর দিকে ফিরে আসে এবং তাওহীদের উপর থাকে, তার জন্য আল্লাহর রহমতের দরজা খোলা থাকতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী صلى الله عليه وسلم-এর শাফা‘আত আল্লাহর অনুমতিতে হবে।
  • একদল মানুষ শাফা‘আতের মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে বের হবে।
  • গুনাহকে সহজ ভাবা নয়; বরং আল্লাহর রহমতের আশা রাখা উচিত।
  • উম্মতের জন্য রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর দয়া ও সুপারিশের বিষয়টি এখানে স্পষ্ট।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন