২৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৮৬-[২১] - সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত জান্নাতি
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
সর্বশেষ জান্নাতির জন্য দুনিয়ার দশগুণ দান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৮৬-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৮৬-[২১]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنِّي لَأَعْلَمُ آخِرَ أَهْلِ النَّارِ خُرُوجًا مِنْهَا وَآخِرَ أَهْلِ الْجَنَّةِ دُخُولًا رَجُلٌ يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ حَبْوًا. فَيَقُولُ اللَّهُ: اذْهَبْ فَادْخُلِ الْجَنَّةَ فَإِنَّ لَكَ مِثْلَ الدُّنْيَا وَعَشَرَةَ أَمْثَالِهَا. فَيَقُولُ: أَتَسْخَرُ مِنِّي - أَوْ تَضْحَكُ مِنِّي - وَأَنْتَ الْمَلِكُ؟ وَلَقَدْ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ضَحِكَ حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِذُهُ وَكَانَ يُقَالُ: ذَلِكَ أَدْنَى أَهْلِ الْجَنَّةِ مَنْزِلَةً. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ متفق علیہ، رواہ البخاری (6571) و مسلم (308 / 186)، (461) ۔ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : জাহান্নাম হতে সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত এবং সর্বশেষে জান্নাতে প্রবেশকারীকে আমি খুব ভালোভাবেই চিনি। সে এমন এক লোক, যে হামাগুঁড়ি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে আসবে। আল্লাহ তা'আলা বলবেন, যাও, তুমি জান্নাতে প্রবেশ কর। তোমাকে জান্নাতে দুনিয়ার সমপরিমাণ এবং তার দশগুণ জায়গা দেয়া হলো। তখন সে বলবে, হে প্রভু! আপনি কি আমার সাথে হাসি-ঠাট্টা করছেন? অথচ আপনি তো (সকল বাদশাহর) বাদশাহ। ইবনু মাস'উদ (রাঃ) বলেন, আমি দেখলাম, এ কথাটি বলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনভাবে হাসলেন যে, তার মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশ হয়ে পড়ল। আর বলা হয়, এ লোক মর্যাদার দিক দিয়ে হবে জান্নাতীদের সর্বনিম্ন স্তরের।
সহীহঃ বুখারী ৬৫৭১, মুসলিম ৩০৮-(১৮৬), ইবনু মাজাহ ৪৩৩৯, সহীহুল জামি ২৪৮৯, মুসনাদে বাযযার ১৭৮৩, মুসনাদে আহমাদ ৭৩৯১, আবূ ইয়া'লা ৫১৩৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৪৭৫, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ১০১৮৭।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৮৬-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তিনি জাহান্নাম থেকে সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত এবং জান্নাতে সর্বশেষ প্রবেশকারী ব্যক্তিকে জানেন। সে হামাগুড়ি দিয়ে জাহান্নাম থেকে বের হবে। আল্লাহ তাকে বলবেন, যাও, জান্নাতে প্রবেশ কর। তার জন্য জান্নাতে দুনিয়ার সমপরিমাণ এবং তার দশগুণ দান থাকবে। সে অবাক হয়ে বলবে, হে প্রভু, আপনি কি আমার সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা করছেন, অথচ আপনি বাদশাহ। এই কথায় রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এমনভাবে হাসলেন যে তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা গেল। হাদিসে আরও বলা হয়েছে, এই ব্যক্তি মর্যাদার দিক দিয়ে জান্নাতীদের সর্বনিম্ন স্তরের হবে। তবু তার দান কত বড়, তা থেকে জান্নাতের নেয়ামত বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাতের সর্বনিম্ন স্তরও বড় দানের পরিচয় বহন করে।
- জাহান্নাম থেকে মুক্তি আল্লাহর বড় দয়া।
- মানুষের ধারণা সীমিত, আর আল্লাহর দান অনেক বড়।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم শেষ জান্নাতির ঘটনা হাসিমুখে বর্ণনা করেছেন।
