২৯/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮১২-[১২] - অভিশাপ নয়, নবীজি রহমত হিসেবে প্রেরিত
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
নবীজি রহমত: অভিশাপ নয়, দয়ার বার্তা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৮১২-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৮১২-[১২]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ ادْعُ عَلَى الْمُشْرِكِينَ. قَالَ: «إِنِّي لَمْ أُبْعَثْ لَعَّانًا وَإِنَّمَا بُعِثْتُ رَحْمَةً». رَوَاهُ مُسْلِمٌ رواہ مسلم (87 / 2599)، (6613) ۔ (صَحِيح)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে) প্রস্তাব করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! কাফির মুশরিকদের ওপর অভিসম্পাত করুন। উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, আমাকে অভিসম্পাতকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি, বরং আমাকে রহমাতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে।
সহীহ: মুসলিম ৮৭-(২৫৯৯), সহীহুল জামি ২৫০১, সহীহ আল আদবুল মুফরাদ ২৪৪, আবূ ইয়ালা ৬১৭৪, সাল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৫৭৫৫, আল আদবুল মুফরাদ ৩২১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮১২-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর মিশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক স্পষ্ট হয়েছে। তাঁকে বলা হলো, “হে আল্লাহর রাসূল! কাফির মুশরিকদের ওপর অভিসম্পাত করুন।” কিন্তু তিনি উত্তরে বললেন, “আমাকে অভিসম্পাতকারী হিসেবে পাঠানো হয়নি, বরং আমাকে রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে।” এই বর্ণনা নবীজির রহমত, দয়া এবং অভিশাপ থেকে দূরে থাকার শিক্ষা দেয়। কেউ বিরোধিতা করলেও নবী صلى الله عليه وسلم নিজের পরিচয় অভিশাপকারী হিসেবে দেননি। বরং তিনি নিজের প্রেরণের মূল দিক হিসেবে রহমতকে উল্লেখ করেছেন। এই হাদিস ভাষা, দোয়া এবং মানুষের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি—সব ক্ষেত্রেই ভারসাম্য শেখায়। রাগ বা কষ্টের সময়ে বদদোয়া সহজ মনে হতে পারে; কিন্তু নবীজির আদর্শ হলো দয়া ও রহমতের পথ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم নিজেকে অভিশাপকারী নয়, রহমত হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
- বিরোধিতার সময়ও দয়ার মন রাখা নবীজির শিক্ষা।
- রাগের কারণে বদদোয়া করার আগে ভাষা ও মনোভাব ঠিক করা দরকার।
- ইসলামের বার্তায় রহমত ও দয়ার দিক গুরুত্বপূর্ণ।
