২৯/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮১৩-[১৩] - নবীজির লজ্জাশীলতা ও সংযত প্রকাশ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
নবীজির লজ্জাশীলতা: অপছন্দের প্রকাশেও সংযম
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৮১৩-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৮১৩-[১৩]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشَدَّ حَيَاءً مِنَ الْعَذْرَاءِ فِي خِدْرِهَا فَإِذَا رَأَى شَيْئًا يَكْرَهُهُ عَرَفْنَاهُ فِي وَجْهِهِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ متفق علیہ ، رواہ البخاری (6102) و مسلم (67 / 2320)، (6032) ۔ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) কোন কিছু অপছন্দ করতেন, তখন তাঁর চেহারায় আমরা তার পরিচয় পেতাম।
সহীহ: বুখারী ৩৫৬২, মুসলিম ৬৭-(২৩২০), মুসনাদে আহমাদ ১১৭০১, সহীহুল জামি' ৪৭৯৯, সহীহ আল আদবুল মুফরাদ ৪৬৮, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ২৫৩৪৬, মুসনাদে ‘আবদ ইবনু হুমায়দ ৯৭৮, আবূ ইয়া'লা ৯৯১, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৩০৬, শু’আবূল ঈমান ৭৭৩১, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৪৯১৪, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২১৩০৬, আল আদাবুল মুফরাদ ৪৬৭।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮১৩-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ সাঈদ খুদরী রা. রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর লজ্জাশীলতা ও সংযত স্বভাব বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم পর্দায় থাকা কুমারী মেয়ের চেয়েও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি কোনো অপছন্দনীয় বিষয় দেখলে সাহাবারা তাঁর চেহারা দেখে তা বুঝতে পারতেন। এই বর্ণনায় একটি সূক্ষ্ম শিক্ষা আছে। নবী صلى الله عليه وسلم অশালীনতা বা অপছন্দের বিষয়ে চুপচাপ অনুমোদন দিতেন না; আবার সব সময় কঠোর ভাষায় প্রকাশ করতেন এমনও নয়। তাঁর মুখের ভাবেই অনেক সময় অসন্তুষ্টি বোঝা যেত। তাই লজ্জাশীলতা, সংযত প্রতিক্রিয়া এবং মুখের ভাষার আগে চরিত্রের নীরব প্রভাব—এসব বিষয় এই হাদিসে দেখা যায়। এটি আমাদের শেখায়, অপছন্দের বিষয়েও ভদ্রতা বজায় রাখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লজ্জাশীলতা নবীজির চরিত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- অপছন্দের বিষয় দেখলেও সংযতভাবে প্রতিক্রিয়া দেওয়া যায়।
- মানুষের মুখের ভাব ও আচরণও চরিত্রের বার্তা দেয়।
- ভদ্রতা রক্ষা করে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করা সুন্দর আচরণ।
