২৯/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮২৮-[২৮] - নবীজির ধীরে স্পষ্ট কথা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
নবীজির ধীরে ও স্মরণযোগ্য কথা বলার আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৮২৮-[২৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৮২৮-[২৮]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْرُدُ سَرْدَكُمْ هَذَا وَلَكِنَّهُ كَانَ يَتَكَلَّمُ بِكَلَامٍ بَيْنَهُ فَصْلٌ يَحْفَظُهُ من جَلَسَ إِلَيْهِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ صحیح، رواہ الترمذی (3639 وقال : حسن صحیح) ۔ (إِسْنَاده جيد)
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তোমরা যেভাবে অনর্গল বিরতিহীন কথাবার্তা বল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐরূপভাবে কথা বলতেন না; বরং তিনি প্রতিটি বাক্যকে পৃথক পৃথকভাবে বলতেন। ফলে যে লোক তাঁর কাছে বসত, সে তা স্মরণ রাখতে পারত।
হাসান: তিরমিযী ৩৬৩৯, মুসনাদে আহমাদ ২৬২৫২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮২৮-[২৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কথা বলার ধরন বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নবীজি মানুষের মতো অনর্গল, বিরতিহীনভাবে কথা বলতেন না। বরং তিনি প্রতিটি বাক্য আলাদা আলাদা করে বলতেন। ফলে যে ব্যক্তি তাঁর কাছে বসত, সে কথাগুলো মনে রাখতে পারত। এটি কথা বলার একটি বড় শিক্ষা। জ্ঞান, উপদেশ বা সাধারণ কথা—সবক্ষেত্রে শ্রোতার বোঝার সুবিধা রাখা দরকার। দ্রুত বললে মানুষ শুনলেও মনে রাখতে পারে না। নবীজির এই আদব আমাদের শেখায়, ভালো বক্তা হওয়া মানে বেশি কথা বলা নয়; বরং এমনভাবে বলা, যাতে কথার অর্থ পরিষ্কার হয় এবং মানুষের উপকারে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথা বলার সময় শ্রোতার বোঝার সুবিধা রাখা উচিত।
- ধীরে ও আলাদা বাক্যে বলা কথা সহজে মনে থাকে।
- অতিরিক্ত দ্রুত কথা বলা সবসময় ভালো যোগাযোগ নয়।
- উপকারী কথা পরিষ্কারভাবে বলা নবীজির আদব থেকে শেখা যায়।
