৪/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮৫-[৫] - সালাত রক্ষা ও পাঁচ ওয়াক্তের সময়
(সালাতের) সময়সমূহ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
সালাত রক্ষা মানে দীন রক্ষার যত্ন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৮৫-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৮৫-[৫]
عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ اَنَّه كَتَبَ إِلى عُمَّالِه إِنَّ أَهَمَّ أَمْرِكُمْ عِنْدِي الصَّلَاةُ مَنْ حَفِظَهَا وَحَافَظَ عَلَيْهَا حَفِظَ دِينَه وَمَنْ ضَيَّعَهَا فَهُوَ لِمَا سِوَاهَا أَضْيَعُ ثُمَّ كَتَبَ أَنْ صَلُّوا الظُّهْرَ اَنْ كَانَ الْفَيْءُ ذِرَاعًا إِلى أَنْ يَكُونَ ظِلُّ أَحَدِكُمْ مِثْلَه وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ قَدْرَ مَا يَسِيرُ الرَّاكِبُ فَرْسَخَيْنِ أَوْ ثَلَاثَةً قَبْلَ مَغِيْبِ الشَّمْسِ وَالْمَغْرِبَ إِذَا غاب الشَّمْسُ وَالْعِشَاءَ إِذَا غَابَ الشَّفَقُ إِلى ثُلُثِ اللَّيْلِ فَمَنْ نَامَ فَلَا نَامَتْ عَيْنُه فَمَنْ نَامَ فَلَا نَامَتْ عَيْنُه فَمَنْ نَامَ فَلَا نَامَتْ عَيْنُه وَالصُّبْحَ وَالنُّجُومُ بَادِيَةٌ مُشْتَبِكَةٌ.رَوَاهُ مَالك
খলীফাহ্ ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি তার শাসনকর্তাদের কাছে লিখলেন, আমার কাছে আপনাদের সকল কাজের মধ্যে সালাতই হল সর্বাধিক তাৎপর্যপূর্ণ। যে এর যথাযথ হিফাযাত করেছে ও তা রক্ষা করেছে, সে তার দীনকে রক্ষা করেছে। আর যে তা বিনষ্ট করেছে সে তা ছাড়া অপরগুলোর পক্ষে আরো বেশি বিনষ্টকারী প্রমাণিত হবে।অতঃপর তিনি লিখলেন, যুহরের সালাত আদায় করবে ছায়া এক বাহু ঢলে পড়ার পর থেকে শুরু করে ছায়া এক মিসাল হওয়া পর্যন্ত (ছায়া আসলী বাদ দিয়ে)। সূর্য উপরে পরিষ্কার সাদা থাকা অবস্থায় ‘আসরের সালাত আদায় করবে, যাতে একজন আরোহী সূর্য অদৃশ্য হবার পূর্বেই দুই বা তিন ফারসাখ পথ অতিক্রম করে যেতে পারে। মাগরিবের সালাত আদায় করবে সূর্য অস্ত যাবার পরপর। ‘ইশার সালাত আদায় করবে ‘শাফাক্ব’ দূর হয়ে যাবার পর থেকে শুরু করে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। তার চোখ না ঘুমাক যে এর আগে ঘুমাবে (তিনবার বললেন)। অতঃপর ফাজরের সালাত আদায় করবে যখন তারাসমূহ পরিষ্কার হয় ও চকমক করে। [১]
[১] য‘ঈফ : মুয়াত্ত্বা মালিক ৬। কারণ রাবী নাফি‘ ‘উমার ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ)-কে পাননি। তাই এর সানাদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে যা হাদীস দুর্বল হওয়ার একটি অন্যতম কারণ।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮৫-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় উমর ইবনুল খাত্তাব রা. তাঁর শাসনকর্তাদের কাছে সালাতের গুরুত্ব লিখে পাঠান। তিনি বলেন, তাদের কাজের মধ্যে সালাতই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে সালাতের হিফাজত করে, সে নিজের দীন রক্ষা করে। আর যে সালাত নষ্ট করে, সে অন্য কাজের ব্যাপারে আরও বেশি নষ্টকারী হতে পারে। এরপর তিনি যুহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফাজরের সময় সম্পর্কে নির্দেশনা দেন। যুহর ছায়ার হিসাব অনুযায়ী, আসর সূর্য পরিষ্কার থাকা অবস্থায়, মাগরিব সূর্য অস্ত গেলে, ইশা শাফাক দূর হলে এবং ফাজর তারা দেখা থাকা অবস্থায় আদায়ের কথা বলেন। এই বর্ণনা সালাতকে সময়মতো রাখার গুরুত্ব শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের হিফাজত দীন রক্ষার বড় চিহ্ন।
- শাসন ও দায়িত্বের কাজেও সালাতকে অগ্রাধিকার দিতে হয়।
- পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নির্দিষ্ট সময় বুঝে আদায় করতে হয়।
- ইশার আগে ঘুমিয়ে পড়া নিয়ে সতর্কতা এসেছে।
