৪/২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬০০-[১৪] - শাসক দেরি করলেও সময়মতো সালাত

প্রথম ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালাত আদায় - প্রথম অনুচ্ছেদ

এ অধ্যায়ে তাড়াতাড়ি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বলতে ফরয সালাতকে বুঝানো হয়েছে। কেননা মূলনীতি হলো ফরয সালাতকে প্রথম ওয়াক্তে তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়া। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَسَارِعُوا إِلى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ’‘তোমরা আল্লাহর মাগফিরাতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও।’’ (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩: ১৩৩)অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ’‘তোমরা কল্যাণের কাজে তাড়াতাড়ি অগ্রসর হও।’’(সূরাহ্ আল্ বাক্বারাহ্ ২: ১৪৮)তবে বিশেষ কল্যাণের কারণে শারী‘আত প্রণেতা যে সালাতকে দেরী করে আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন তা দেরী করে আদায় করাই উত্তম। যেমন, ‘ইশার সালাত এবং প্রচন্ড গরমের সময় যুহরের সালাত।

শাসক সালাত দেরি করলে সময়মতো নিজের সালাত

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬০০-[১৪]

وَعَنْ أَبِي ذَرٍّ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كَانَتْ عَلَيْكَ أُمَرَاءُ يُمِيتُونَ الصَّلَاةَ اَوْ يُؤَخِّرُوْنَهَا عَنْ وَقْتِهَا قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ صَلِّ الصَّلَاةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ أَدْرَكْتَهَا مَعَهُمْ فَصَلِّ فَإِنَّهَا لَكَ نَافِلَةٌ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, সে সময় তুমি কী করবে যখন তোমাদের উপর শাসকবৃন্দ এমন হবে, যারা সালাতের প্রতি অমনোযোগী হবে অথবা তা সঠিক সময় হতে পিছিয়ে দিবে? আমি বললাম, আপনি কী আমাকে নির্দেশ দেন? তিনি (ﷺ) বললেন, এ সময়ে তুমি তোমার সালাতকে সঠিক সময়ে আদায় করে নিবে। অতঃপর তাদের সাথে পাও, আবার আদায় করবে। আর এ সালাত তোমার জন্য নাফ্‌ল হিসেবে গণ্য হবে। [১]

[১] সহীহ : মুসলিম ৬৪৮, আবূ দাঊদ ৪৩১, ইবনু মাজাহ্ ১২৫৬, তিরমিযী ১৭৬, দারেমী ১২৬৪, আহমাদ ২১৩২৪, সহীহ আল জামি‘ ৪৫৮৮; তবে হাদীসের এ শব্দগুলো আবূ দাঊদের।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬০০-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আবূ যর রা.-কে একটি অবস্থার কথা জিজ্ঞেস করেন। যদি এমন শাসক আসে, যারা সালাতের প্রতি অমনোযোগী হয় বা সালাতকে সঠিক সময় থেকে পিছিয়ে দেয়, তখন কী করা উচিত? আবূ যর রা. নির্দেশ জানতে চাইলে রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেন, তুমি তোমার সালাত সঠিক সময়ে আদায় করে নেবে। এরপর যদি তাদের সাথে সালাত পাও, আবার আদায় করবে; সেটি তোমার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে। এই হাদিস সালাতের সময় রক্ষার খুব স্পষ্ট শিক্ষা দেয়। অন্যের অবহেলার কারণে নিজের ফরজ সালাত দেরি করা যাবে না। একই সঙ্গে জামাআতের অবস্থায় পুনরায় পড়লে সেটিকে নফল হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শাসক বা নেতৃত্ব দেরি করলেও নিজের সালাত সময়মতো আদায় করতে হবে।
  • ফরজ সালাতের ওয়াক্ত রক্ষা ব্যক্তিগত দায়িত্ব।
  • পরে তাদের সঙ্গে পড়লে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে।
  • অন্যের অবহেলায় নিজের ইবাদত নষ্ট করা উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন