৪/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৯-[১৩] - সাহরি ও ফাজরের মাঝের সময়
প্রথম ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালাত আদায় - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে তাড়াতাড়ি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বলতে ফরয সালাতকে বুঝানো হয়েছে। কেননা মূলনীতি হলো ফরয সালাতকে প্রথম ওয়াক্তে তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়া। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَسَارِعُوا إِلى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ’‘তোমরা আল্লাহর মাগফিরাতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও।’’ (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩: ১৩৩)অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ’‘তোমরা কল্যাণের কাজে তাড়াতাড়ি অগ্রসর হও।’’(সূরাহ্ আল্ বাক্বারাহ্ ২: ১৪৮)তবে বিশেষ কল্যাণের কারণে শারী‘আত প্রণেতা যে সালাতকে দেরী করে আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন তা দেরী করে আদায় করাই উত্তম। যেমন, ‘ইশার সালাত এবং প্রচন্ড গরমের সময় যুহরের সালাত।
সাহরি শেষ করে ফাজরে দাঁড়ানোর সময়ের মাপ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৯৯-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৯৯-[১৩]
وَعَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ أَنَّ النَبِيَّ ﷺ وَزَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ تَسَحَّرَا فَلَمَّا فَرَغَا مِنْ سَحُوْرِهِمَا قَامَ نَبِيُّ اللهِ ﷺ إِلَى الصَّلَاةِ فَصَلّى قُلْنَا لِأَنَسٍ كَمْ كَانَ بَيْنَ فَرَاغِهِمَا مِنْ سَحُورِهِمَا وَدُخُولِهِمَا فِي الصَّلَاةِ قَالَ قَدْرُ مَا يَقْرَأُ الرَّجُلُ خَمْسِينَ آيَةً. رَوَاهُ الْبُخَارِىُّ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ও যায়দ ইবনু সাবিত (রাঃ) (সিয়াম পালনের জন্য) সাহ্রী খেলেন। সাহ্রী শেষ করে নবী (ﷺ) (ফজরের) সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। আমরা ‘আনাসকে জিজ্ঞেস করলাম, এ দুইজনের খাবার পর সালাত শুরু করার আগে কী পরিমাণ সময়ের বিরতি ছিল? তিনি উত্তরে বলেন, এ পরিমাণ বিরতির সময় ছিল যাতে একজন পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৫৭৬, নাসায়ী ২১৫৫, আহমাদ ১৩৪৬০।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৯-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস রা. নবী صلى الله عليه وسلم ও যায়দ ইবনু সাবিত রা.-এর সাহরি এবং ফাজরের সালাতের মাঝের সময় বর্ণনা করেছেন। তারা সাহরি খাওয়ার পর নবী صلى الله عليه وسلم সালাতে দাঁড়ালেন এবং ফাজর আদায় করলেন। আনাস রা.-কে জিজ্ঞেস করা হলো, খাবার শেষ করার পর সালাত শুরু করার আগে কতটা সময় ছিল? তিনি বললেন, এতটুকু সময়, যাতে একজন মানুষ পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে। এই হাদিস সাহরি শেষ সময় ও ফাজরের কাছাকাছি সময়ের একটি ব্যবহারিক ধারণা দেয়। এখানে মিনিটের হিসাব দেওয়া হয়নি; বরং তিলাওয়াতের সময় দিয়ে পরিমাণ বোঝানো হয়েছে। তাই ব্যাখ্যাও এই সীমার মধ্যে রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহরি ফাজরের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত করা হয়েছে।
- সাহরি শেষ ও ফাজর শুরুর মাঝে অল্প বিরতির বর্ণনা এসেছে।
- সময় বোঝাতে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াতের পরিমাণ বলা হয়েছে।
- হাদিসটি সাহরি ও ফাজরের সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করে।
