২৯/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৪২-[৭৫] - অনুমতি ছাড়া সম্পদ গ্রহণের ভয়াবহতা
মুজিযার বর্ণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
অন্যের অনুমতি ছাড়া সম্পদ গ্রহণের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৯৪২-[৭৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৯৪২-[৭৫]
وَعَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةٍ فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَلَى الْقَبْرِ يُوصِي الْحَافِرَ يَقُولُ: «أَوْسِعْ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ أَوْسِعْ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ» فَلَمَّا رَجَعَ اسْتَقْبَلَهُ دَاعِيَ امْرَأَتِهِ فَأَجَابَ وَنَحْنُ مَعَه وَجِيء بِالطَّعَامِ فَوَضَعَ يَدَهُ ثُمَّ وَضَعَ الْقَوْمُ فَأَكَلُوا فَنَظَرْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يلوك لقْمَة فِي فَمه ثُمَّ قَالَ أَجِدُ لَحْمَ شَاةٍ أُخِذَتْ بِغَيْرِ إِذْنِ أَهْلِهَا فَأَرْسَلَتِ الْمَرْأَةُ تَقُولُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي أَرْسَلْتُ إِلَى النَّقِيعِ وَهُوَ مَوْضِعٌ يُبَاعُ فِيهِ الْغَنَمُ لِيُشْتَرَى لِي شَاةٌ فَلَمْ تُوجَدْ فَأَرْسَلْتُ إِلَى جَارٍ لِي قَدِ اشْتَرَى شَاة أَن أرسل إِلَيّ بهَا بِثَمَنِهَا فَلَمْ يُوجَدْ فَأَرْسَلْتُ إِلَى امْرَأَتِهِ فَأَرْسَلَتْ إِلَيَّ بِهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَطْعِمِي هَذَا الطَّعَامَ الْأَسْرَى»رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ والْبَيْهَقِيُّ فِي دَلَائِلِ النُّبُوَّةِ اسنادہ صحیح، رواہ ابوداؤد (3332) [و عنہ] و البیھقی فی دلائل النبوۃ (6 / 310) * قولہ «داعی امراتہ» خطا من الناسخ اوغیرہ، و الصواب : «داعی امراۃ» کما فی سنن ابی داود وغیرہ ولو صح فمعناہ «ای امراۃ الحافر» و لا یدل ھذا اللفظ الی ما ذھب الیہ البریلویۃ و من و افقھم بان المراد منہ «داعی امراۃ المیت» و لم یاتو بای دلیل علی تحریفھم ھذا ! ۔ (صَحِيح)
আসিম ইবনু কুলায়ব (রহঃ) তাঁর পিতা হতে, তিনি (কুলাযব) জনৈক আনসারী লোক হতে বর্ণিতঃ
একবার আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে এক লোকের জানাযায় গেলাম। পরে আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কবরের কাছে উপস্থিত হয়ে কবর খননকারীকে নির্দেশ দিয়ে বলছেন, (মৃত ব্যক্তির কবরকে) পায়ের দিকে ও মাথার দিকে আরো প্রশস্ত কর। অতঃপর তিনি (ﷺ) দাফন কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে আসলে মৃত লোকের (বিধবা) স্ত্রীর পক্ষ হতে এক লোক এসে নবী (ﷺ) কে খাদ্যের দাওয়াত দিল। রাসূল (ﷺ) দাওয়াত গ্রহণ করলেন এবং তাঁর সঙ্গে আমরাও খেতে গেলাম। তাঁর সামনে খাদ্য আনা হলে তিনি তাতে হাত রাখলেন, অতঃপর লোকেরাও হাত বাড়িয়ে খেতে শুরু করল। এ সময় আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর দিকে তাকিয়ে দেখলাম, তিনি গোশতের একটি গ্রাসকে মুখের ভিতরে রেখে নাড়াচাড়া করছেন।অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন, এমন একটি বকরির গোশত বলে আমি একে অনুভব করছি, যা তার মালিকের অনুমতি ছাড়াই আনা হয়েছে। তখন মহিলাটি (রাসূল (ﷺ)-এর সন্দেহ জানতে পেরে) একজন লোক পাঠিয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! বকরি ক্রয় করার জন্য আমি এক লোককে নাক্বী' বাজারে পাঠিয়েছিলাম। তা এমন একটি স্থান, যেখানে ভেড়া, বকরি ও দুম্বা ইত্যাদি বিক্রয় হয়; কিন্তু সেখানে কোন ভেড়া-বকরি পাওয়া যায়নি। অতঃপর আমার একজন প্রতিবেশীর কাছে পাঠালাম। সে নিজের জন্য একটি বকরি ক্রয় করেছিল। আমি এই বলে লোকটিকে পাঠিয়েছিলাম, সে যে দামে বকরিটি ক্রয় করেছে, ঠিক সেই দামেই বকরিটি যেন আমার জন্য পাঠিয়ে দেয়, কিন্তু সে ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি। অতঃপর আমি তার স্ত্রীর কাছে লোক পাঠালাম। তখন তার স্ত্রী আমার জন্য বকরিটি পাঠিয়ে দিয়েছে (এটা সেই বকরিরই গোশত)। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, এ খাদ্যগুলো বন্দিদেরকে খাইয়ে দাও।
সহীহ: আবূ দাউদ ৩৩৩২, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১১১৪০, ইরওয়া ৩/১৯৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৪২-[৭৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জানাযা, দাফন এবং খাবারের দাওয়াতের একটি ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানাযার পর দাওয়াত গ্রহণ করেন। খাবার সামনে আনা হলে তিনি গোশতের একটি গ্রাস মুখে নেন, কিন্তু তা চিবাতে থাকেন এবং বলেন, তিনি অনুভব করছেন এটি এমন বকরির গোশত, যা মালিকের অনুমতি ছাড়া আনা হয়েছে। পরে জানা গেল, বকরিটি আসলে প্রতিবেশীর কাছ থেকে তার নিজের অনুমতি ছাড়াই তার স্ত্রীর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সেই খাবার বন্দিদের খাওয়াতে বলেন। এই বর্ণনা অন্যের সম্পদ, খাবার ও মালিকানার অধিকারকে খুব গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরে। ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও মালিকের অনুমতি ছাড়া তার জিনিস নেওয়া ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্যের সম্পদ ব্যবহার করার আগে মালিকের স্পষ্ট অনুমতি জরুরি।
- খাবার হালাল ও বৈধভাবে আসা কিনা তা গুরুত্বের বিষয়।
- ভালো উদ্দেশ্য থাকলেও অন্যের অধিকার নষ্ট করা যাবে না।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সন্দেহজনক বিষয়েও সতর্কতা দেখিয়েছেন।
