২৯/৭. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৪৩-[৭৬] - উম্মু মা'বাদের বকরির বরকত

মুজিযার বর্ণনা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ

উম্মু মা'বাদের বকরির দুধে বরকতের ঘটনা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৯৪৩-[৭৬]

وَقد يرقى إِلَى الْحسن بِتَعَدُّد طرقه) وَعَن حَازِم بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ حُبَيْشِ بن خَالِد - وَهُوَ أَخُو أمِّ مَعْبَد - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ أُخْرِجَ مِنْ مَكَّةَ خَرَجَ مُهَاجِرًا إِلَى الْمَدِينَةِ هُوَ وَأَبُو بَكْرٍ وَمَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَامِرُ بْنُ فُهَيْرَةَ وَدَلِيلُهُمَا عَبْدُ اللَّهِ اللَّيْثِي مَرُّوا عَلَى خَيْمَتَيْ أُمِّ مَعْبَدٍ فَسَأَلُوهَا لَحْمًا وَتَمْرًا لِيَشْتَرُوا مِنْهَا فَلَمْ يُصِيبُوا عِنْدَهَا شَيْئًا من ذَلِك وَكَانَ الْقَوْمُ مُرْمِلِينَ مُسْنِتِينَ فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى شَاةٍ فِي كِسْرِ الْخَيْمَةِ فَقَالَ: «مَا هَذِهِ الشَّاةُ يَا أُمَّ معبد؟» قَالَتْ: شَاةٌ خَلَّفَهَا الْجَهْدُ عَنِ الْغَنَمِ. قَالَ: «هَلْ بِهَا مِنْ لَبَنٍ؟» قَالَتْ: هِيَ أَجْهَدُ مِنْ ذَلِكَ. قَالَ: «أَتَأْذَنِينَ لِي أَنْ أَحْلِبَهَا؟» قَالَتْ: بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي إِنْ رَأَيْتَ بِهَا حَلباً فاحلبها. فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَمَسَحَ بِيَدِهِ ضَرْعَهَا وَسَمَّى اللَّهَ تَعَالَى وَدَعَا لَهَا فِي شَاتِهَا فتفاجت عَلَيْهِ وَردت وَاجْتَرَّتْ فَدَعَا بِإِنَاءٍ يُرْبِضُ الرَّهْطَ فَحَلَبَ فِيهِ ثجَّاً حَتَّى علاهُ الْبَهَاءُ ثُمَّ سَقَاهَا حَتَّى رَوِيَتْ وَسَقَى أَصْحَابَهُ حَتَّى رَوُوا ثُمَّ شَرِبَ آخِرَهُمْ ثُمَّ حَلَبَ فِيهِ ثَانِيًا بَعْدَ بَدْءٍ حَتَّى مَلَأَ الْإِنَاءَ ثُمَّ غَادَرَهُ عِنْدَهَا وَبَايَعَهَا وَارْتَحَلُوا عَنْهَا. رَوَاهُ فِي «شَرْحِ السُّنَّةِ» وَابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ فِي «الِاسْتِيعَابِ» وَابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي كِتَابِ «الْوَفَاءِ» وَفِي الحَدِيث قصَّةٌ حسن، رواہ البغوی فی شرح السنۃ (13 / 261 ح 3704) و ابن عبدالبر فی الاستیعاب (4 / 495 ۔ 498 مع الاصابۃ) [و صححہ الحاکم (3 / 9، 10 و وافقہ الذھبی] * و للحدیث شواھد

হুবায়শ ইবনু খালিদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন মাক্কাহ্ হতে বহিষ্কৃত হলেন, তখন তিনি মাদীনার দিকে হিজরত করলেন। তাঁর সাথে ছিলেন আবূ বাক্ সিদ্দীক্ব (রাঃ) ও আবূ বাক্ সিদ্দীক্ব (রাঃ)- এর আযাদকৃত দাস ‘আমির ইবনু ফুহায়রাহ্ এবং পথপ্রদর্শক ‘আবদুল্লাহ আল লায়সী। পথ অতিক্রমকালে তাঁরা উম্মু মা'বাদ (রাঃ) হতে গোশত এবং খেজুর ক্রয় করতে চাইলেন, কিন্তু তার কাছে এর কিছুই পাননি। মূলত সে সময় লোকেরা অনাহার ও দুর্ভিক্ষে নিমজ্জিত ছিল।এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁবুর এক পার্শ্বের একটি বকরি দেখতে পেলেন। তিনি প্রশ্ন করলেন, হে উম্মু ম” বাদ! এ বকরিটির কি হয়েছে? সে বলল, এটা এতই দুর্বল যে, দলের বকরিগুলোর সাথে যাওয়ার মতো ক্ষমতা নেই। তিনি (ﷺ) প্রশ্ন করলেন, এতে কি দুধ আছে? উম্মু মা'বাদ (রাঃ) বলল, সে নিজেই বিপদগ্রস্তা; অতএব দুধ দেবে কিভাবে? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি কি আমাকে এ অনুমতি দেবে যে, আমি তার দুধ দোহন করি? উম্মু মা'বাদ (রাঃ) আগ্রহের সাথে বিষয়ে বলল, আমার পিতামাতা আপনার ওপর উৎসর্গ হোক! আপনি যদি তার স্তনে দুধ দেখতে পান, তাহলে তা দোহন করুন।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বকরিটিকে কাছে আনলেন, তারপর বকরিটির স্তনে হাত বুলালেন এবং বিসমিল্লাহ পড়ে উম্মু মা'বাদ-এর জন্য তার বকরির বিষয়ে (বারাকাতের) দোয়া করলেন। তখন বকরিটি দোহনের জন্য নিজের রান দুটি প্রশস্ত করে রাসূল (ﷺ) এর সামনে দাঁড়িয়ে জাবর কাটতে লাগল। এদিকে দুধ দোহনের জন্য নবী (ﷺ) এত বড় একটি পাত্র চাইলেন, যা দ্বারা একদল লোক তুষ্টির সাথে পান করতে পারে। প্রবাহিত ঢলের মতো তিনি তাতে দুধ দোহন করলেন, এমনকি তার উপর ফেনাও জমে গেল।অতঃপর তিনি উম্মু ম” বাদ-কে পান করতে দিলেন। সে তুষ্ট হয়ে পান করল। পরে তিনি (ﷺ) সাথিদেরকে পান করালেন, তারাও পরিতৃপ্তি লাভ করলেন এবং সকলের শেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজে পান করলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্বিতীয়বার দোহন করলেন, এমনকি সেই পাত্রটি এবারও দুধে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি সেই দুধ উম্মু মা'বাদ-এর কাছে রেখে দিলেন। (যেন তার স্বামীও নবী (ﷺ) এর মু'জিযাকে প্রত্যক্ষ করতে পারে) এবং উম্মু মা’বাদ-এর তরফ হতে ইসলামের বায়'আত গ্রহণ করে তাঁরা সামনের দিকে যাত্রা করলেন।

সহীহ: বায়হাক্বী ১/২৭৬-২৭৮। (শারহুস্ সুন্নাহ্; আর ইবনু 'আবদুল বার ইস্তী‘আব গ্রন্থে এবং ইবনু জাওযী আল-ওয়াফা কিতাবে বর্ণনা করেছেন এবং অত্র হাদীসটির মধ্যে আরো কিছু ঘটনা রয়েছে)

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৪৩-[৭৬]-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় হিজরতের পথে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم, আবূ বাকর রাঃ এবং তাঁদের সঙ্গীদের একটি ঘটনা এসেছে। তাঁরা উম্মু মা'বাদের কাছে গোশত ও খেজুর কিনতে চান, কিন্তু দুর্ভিক্ষের কারণে তার কাছে কিছুই ছিল না। তাঁবুর পাশে একটি দুর্বল বকরি ছিল, যা দলের সঙ্গে চলার শক্তিও রাখত না। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দুধ দোহনের অনুমতি চান। অনুমতি পেয়ে তিনি বকরির স্তনে হাত বুলান, বিসমিল্লাহ পড়েন এবং বরকতের দোয়া করেন। এরপর সেই দুর্বল বকরি থেকে এত দুধ বের হলো যে উম্মু মা'বাদ, সাহাবীগণ এবং শেষে নবী صلى الله عليه وسلم নিজে পান করলেন। আবার পাত্র ভরে দুধ রেখে গেলেন। এখানে হিজরত, নবী صلى الله عليه وسلم-এর মু'জিযা এবং আল্লাহর দেওয়া বরকতের বিষয়টি স্পষ্টভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবী صلى الله عليه وسلم কোনো কিছুর আগে মালিকের অনুমতি নিয়েছেন।
  • আল্লাহ চাইলে দুর্বল ও অপ্রত্যাশিত জিনিসেও বরকত দিতে পারেন।
  • রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم সাথিদের আগে অন্যকে পান করিয়েছেন এবং নিজে শেষে পান করেছেন।
  • বিসমিল্লাহ ও দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর কাছে বরকত চাওয়া সুন্দর শিক্ষা।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন