৩০/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬০০১-[২৩] - কুরায়শের শাসন ও আমানতের মর্যাদা
কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
কুরায়শের শাসন ও আমানতদারীর শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬০০১-[২৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬০০১-[২৩]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْمُلْكُ فِي قُرَيْشٍ وَالْقَضَاءُ فِي الْأَنْصَارِ وَالْأَذَانُ فِي الْحَبَشَةِ وَالْأَمَانَةُ فِي الْأَزْدِ» يَعْنِي الْيَمَنَ. وَفِي رِوَايَةٍ مَوْقُوفًا. رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ: هَذَا أصح اسنادہ حسن، رواہ الترمذی (3936) ۔ (مَوْقُوف)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : শাসন-কর্তৃত্ব কুরায়শদের মাঝে, বিচার আনসারদের মধ্যে, আযান হাবশীদের মাঝে এবং আমানাতকারী আযদ তথা ইয়ামানীদের মাঝে। [ইমাম তিরমিযী (রহঃ) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন, এ হাদীসটি মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত হওয়াই অধিক সহীহ]
সহীহ: তিরমিযী ৩৯৩৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১০৮৩, মুসনাদে আহমাদ ৮৭৪৬, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ৭/৫৪৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬০০১-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় চারটি বিষয় একসাথে এসেছে: শাসন-কর্তৃত্ব কুরায়শদের মাঝে, বিচার আনসারদের মধ্যে, আযান হাবশীদের মাঝে এবং আমানত ইয়ামানীদের মাঝে। তাই এর মূল শিক্ষা হলো বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিশেষ গুণ ও দায়িত্বের স্বীকৃতি। এখানে কুরায়শের শাসন, আনসারদের বিচারবোধ, হাবশীদের আযান এবং ইয়ামানীদের আমানতদারী—এসব কথা আলাদা আলাদা সম্মানের ভাষায় বলা হয়েছে। তবে হাদিসের শেষে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, ইমাম তিরমিযী বলেছেন এটি মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত হওয়াই অধিক সহীহ। তাই ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার। এই বর্ণনাকে দলীয় গর্ব বা অন্যকে ছোট করার জন্য নয়; বরং আমানত, বিচার ও দায়িত্বের গুরুত্ব বোঝার জন্য পড়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সমাজে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের ভিন্ন গুণ ও দায়িত্ব থাকতে পারে।
- শাসন, বিচার, আযান ও আমানত—সবই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
- বর্ণনার মান সম্পর্কে সতর্ক থাকা ইলমের আদব।
- কোনো গোষ্ঠীর মর্যাদা অন্যদের হেয় করার কারণ নয়।
