৩০/১১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬১৯২-[৯] - সফিয়্যাহ রাঃ-কে সান্ত্বনা ও তাকওয়ার শিক্ষা
নবী-এর পবিত্র স্ত্রীগণের মর্যাদা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সফিয়্যাহ রাঃ-এর মর্যাদা ও কথার আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬১৯২-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬১৯২-[৯]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: بَلَغَ صَفِيَّةَ أَنَّ حَفْصَةَ قَالَتْ: بِنْتُ يَهُودِيٍّ فَبَكَتْ فَدَخَلَ عَلَيْهَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهِيَ تَبْكِي فَقَالَ: «مَا يُبْكِيكِ؟» فَقَالَتْ: قَالَتْ لِي حَفْصَةُ: إِنِّي ابْنَةُ يَهُودِيٍّ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم: «إِنَّك ابْنة نَبِيٍّ وَإِنَّ عَمَّكِ لَنَبِيٌّ وَإِنَّكِ لَتَحْتَ نَبِيٍّ فَفِيمَ تَفْخَرُ عَلَيْكِ؟» ثُمَّ قَالَ: «اتَّقِي اللَّهَ يَا حَفْصَة». رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالنَّسَائِيّ اسنادہ صحیح، رواہ الترمذی (3894 وقال : حسن صحیح غریب) و النسائی فی الکبری (8919) ۔ (صَحِيح)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
স্ত্রী সফিয়্যাহ্ (রাঃ)-এর কাছে এ কথাটি পৌঁছেছে যে, স্ত্রী হাফসাহ্ (রাঃ) তাঁকে ইয়াহুদী কন্যা বলেছেন। এ কথা শুনে সফিয়্যাহ্ (রাঃ) কাঁদতে লাগলেন। এমন সময় নবী (ﷺ) তাঁর কাছে গিয়ে দেখলেন, তিনি কাঁদছেন! প্রশ্ন করলেন কি কারণে তুমি কাঁদছ? সফিয়্যাহ্ (রাঃ) বললেন, হাফসাহ্ (রাঃ) আমাকে ইয়াহুদী কন্যা বলেছে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি তো এক নবীর কন্যা, আরেক নবী তোমার চাচা এবং তুমি আরেক নবীর স্ত্রী। অতএব হাফসা কোন কথায় তোমার ওপর গর্ব করতে পারে? অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেন, হে হাফসা! আল্লাহকে ভয় কর।
সহীহ: তিরমিযী ৩৮৯৪, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৯২১, মুসনাদে আদ ইবনু হুমায়দ ১২৪৮, আবূ ইয়া'লা ৩৪৩৭, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ১৯৬৭৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬১৯২-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফিয়্যাহ রাঃ-এর কষ্টের ঘটনা এসেছে। তাঁর কাছে পৌঁছে যে হাফসা রাঃ তাঁকে ইয়াহুদী কন্যা বলেছেন, তখন তিনি কাঁদতে থাকেন। নবী صلى الله عليه وسلم এসে কারণ জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি বলেন। তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেন, তুমি তো এক নবীর কন্যা, আরেক নবী তোমার চাচা এবং তুমি আরেক নবীর স্ত্রী। এরপর তিনি হাফসা রাঃ-কে বলেন, আল্লাহকে ভয় কর। এই হাদিসে কথার আঘাত, সম্মান রক্ষা এবং তাকওয়ার শিক্ষা আছে। কারও বংশ বা আগের পরিচয় দিয়ে কষ্ট দেওয়া উচিত নয়। নবী صلى الله عليه وسلم কষ্ট পাওয়া ব্যক্তিকে সান্ত্বনা দিয়েছেন এবং অন্য পক্ষকে আল্লাহভীতির কথা স্মরণ করিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথা দিয়ে কাউকে কষ্ট দেওয়া থেকে বাঁচা উচিত।
- কষ্ট পাওয়া মানুষকে সান্ত্বনা দেওয়া নবী صلى الله عليه وسلم-এর সুন্দর আদব।
- মানুষের মর্যাদা শুধু বংশের কারণে খাটো করা যায় না।
- ভুল কথা বললে আল্লাহভীতি স্মরণ করা দরকার।
