৩০/১৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২৬৬-[১] - ওয়াইস কারনীর মর্যাদা ও দোয়া
বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের নামের তালিকা ইমাম বুখারির আল জামিতে যেভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ওয়াইস কারনী রাহ.-এর মর্যাদা ও মাগফিরাতের দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬২৬৬-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬২৬৬-[১]
عَن عمر بن الْخطاب أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ رَجُلًا يَأْتِيكُمْ مِنَ الْيَمَنِ يُقَالُ لَهُ: أُوَيْسٌ لَا يَدَعُ بِالْيَمَنِ غَيْرَ أُمٍّ لَهُ قَدْ كَانَ بِهِ بَيَاضٌ فَدَعَا اللَّهَ فَأَذْهَبَهُ إِلَّا مَوْضِعَ الدِّينَارِ أَوِ الدِّرْهَمِ فَمَنْ لَقِيَهُ مِنْكُمْ فَلْيَسْتَغْفِرْ لَكُمْ وَفِي رِوَايَةٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسلم يَقُولُ: إِنَّ خَيْرَ التَّابِعِينَ رَجُلٌ يُقَالُ لَهُ: أُويس وَله والدةٌ وَكَانَ بِهِ بَيَاض فَمُرُوهُ فليستغفر لكم. رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (223 / 2542)، (6490) ۔ (صَحِيح)
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ইয়ামান দেশ হতে এক লোক তোমাদের কাছে আসবে। তাঁর নাম হবে ‘ওয়াইস'। একজন মাতা ছাড়া ইয়ামান দেশে তাঁর আর কোন নিকটতম আত্মীয়স্বজন থাকবে না। তাঁর দেহে শ্বেত-রোগ থাকবে। এর জন্য তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন। ফলে এক দিরহাম অথবা এক দীনার পরিমাণ জায়গা ছাড়া আল্লাহর তা'আলা তাঁর সেই রোগটি দূর করে দিয়েছেন। অতএব তোমাদের যে কেউ তাঁর সাক্ষাৎ পাবে, সে যেন নিজের ক্ষমার জন্য তাঁর দ্বারা দোয়া করায়। অপর বর্ণনায় আছে, 'উমর (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, তাবি'ঈদের মধ্যে সর্বোত্তম একজন রয়েছেন, এবং তাঁর শরীরে শ্বেত দাগ থাকবে। অতএব তোমরা নিজেদের মাগফিরাতের দোয়ার জন্য তাঁর কাছে অনুরোধ করবে।
সহীহ মুসলিম ২২৩-(২৫৪২), সহীহুল জামি' ২০৮৩, শুআবূল ঈমান ৬৭৯৮, হিলইয়াতুল আওলিয়া ২/৭৯ পৃ.।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২৬৬-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইয়ামানের এক নেক বান্দা ওয়াইসের কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم জানান, তিনি ইয়ামান থেকে আসবেন। তাঁর মাতা ছাড়া সেখানে তাঁর নিকট আত্মীয় থাকবে না। তাঁর শরীরে শ্বেত রোগ ছিল। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন, ফলে আল্লাহ তা দূর করে দেন, শুধু সামান্য চিহ্ন বাকি থাকে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তোমাদের কেউ তাঁর সাক্ষাৎ পেলে নিজের জন্য তাঁর কাছে মাগফিরাতের দোয়া চাইবে। অপর বর্ণনায় তাঁকে তাবিঈদের মধ্যে উত্তম বলা হয়েছে। এই হাদিসে ওয়াইস কারনীর মর্যাদা, আল্লাহর কাছে দোয়ার প্রভাব এবং নেক মানুষের দোয়া চাওয়ার শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেক মানুষের দোয়া মাগফিরাতের আশা জাগায়।
- আল্লাহ চাইলে রোগ ও কষ্ট দূর করতে পারেন।
- মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক ওয়াইসের পরিচয়ের অংশ হিসেবে এসেছে।
- অপরিচিত হলেও আল্লাহর কাছে কারও মর্যাদা বড় হতে পারে।
