৪/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২৮-[৫] - আযান, প্রথম কাতার ও জামাআত
সালাতের ফজিলত - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে সালাতের ফাযীলাত সংক্রান্ত আলোচনা এসেছে। ইবনে হাজার বলেন, ফাযা-য়িলিস সলা-হ্ এর অর্থ হলো, যে সকল বিষয় সালাতের সাওয়াবকে পূর্ণতা দান করে।
আযান, প্রথম কাতার ও ইশা-ফজরের জামাআত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬২৮-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬২৮-[৫]
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الْأَوَّلِ ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلَّاأَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لَاسْتَهَمُوا وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لَاسْتَبَقُوا إِلَيْهِ وَلَوْ يَعْلَمُوْنَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لَاتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মানুষ যদি জানত আযান দেয়া ও সালাতের প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর মধ্যে কী সওয়াব রয়েছে এবং লটারী করা ছাড়া এ সুযোগ না পেত, তাহলে লটারী করত। আর যদি জানত সালাত আদায় করার জন্য আগে আগে আসার সওয়াব, তাহলে তারা এ (যোহরের) সালাতে অন্যের আগে পৌঁছার চেষ্টা করত। যদি জানত এশা ও ফজরের সালাতের মধ্যে আছে, তাহলে (শক্তি না থাকলে) হামাগুড়ি দিয়ে হলেও সালাতে হাযির হবার চেষ্টা করত। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬১৫, মুসলিম ৪৩৭, নাসায়ী ৫৪০, মালিক ৩, তিরমিযী ২২৫, আহমাদ ৭২২৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৬৫৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২৮-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আযান, প্রথম কাতার, সালাতে আগে আসা এবং ইশা-ফজর সালাতের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, মানুষ যদি আযান দেওয়া ও প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর সাওয়াব জানত, আর লটারি ছাড়া সুযোগ না পেত, তাহলে লটারি করত। আবার সালাতের জন্য আগে আগে আসার সাওয়াব জানলে তারা আগে পৌঁছার চেষ্টা করত। আর ইশা ও ফজরের সালাতের মর্যাদা জানলে, শক্তি না থাকলেও হামাগুড়ি দিয়ে আসত। এই হাদিস জামাআতের সালাত, প্রথম কাতার এবং সময়মতো মসজিদে যাওয়ার প্রতি উৎসাহ দেয়। তবে হাদিসের ভাষা অনুযায়ীই বুঝতে হবে, এখানে গুরুত্ব বোঝাতে শক্ত ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযান ও প্রথম কাতারের বড় মর্যাদা আছে।
- সালাতে আগে আসা প্রশংসনীয় আমল।
- ইশা ও ফজর জামাআতে আদায় করা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
- সালাতের জন্য আগ্রহ ও চেষ্টা থাকা উচিত।
