৪/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২৯-[৬] - ইশা-ফজর সালাতের গুরুত্ব
সালাতের ফজিলত - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে সালাতের ফাযীলাত সংক্রান্ত আলোচনা এসেছে। ইবনে হাজার বলেন, ফাযা-য়িলিস সলা-হ্ এর অর্থ হলো, যে সকল বিষয় সালাতের সাওয়াবকে পূর্ণতা দান করে।
ইশা ও ফজর সালাত কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬২৯-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬২৯-[৬]
وَعَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَيْسَ صَلَاةٌ أَثْقَلَ عَلَى الْمُنَافِقِينَ مِنَ الْفَجْرِ وَالْعِشَاءِ وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَاتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মুনাফিকদের জন্য এশা ও ফজরের সালাতের চেয়ে ভারী আর কোন সালাত নেই। যদি এ দুই সালাতের মধ্যে কি রয়েছে, তারা জানত তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও সালাতে আসত। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬৫৭, মুসলিম ৬৫১, ইবনু মাজাহ্ ৭৯৭, আহমাদ ৯৪৮৬, দারেমী ১৩০৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬২৯-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মুনাফিকদের জন্য ইশা ও ফজরের সালাতের চেয়ে ভারী আর কোনো সালাত নেই। যদি তারা জানত এ দুই সালাতের মধ্যে কী রয়েছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও সালাতে আসত। এখানে ইশা নামাজ ও ফজর নামাজের বিশেষ গুরুত্ব স্পষ্ট। কারণ ইশার সময় মানুষ বিশ্রামের দিকে যায়, আর ফজরের সময় ঘুম বেশি টানে। তাই এ দুই সালাত নিয়মিত জামাআতে আদায় করা ঈমানের পরিচর্যার বড় উপায়। হাদিসটি কাউকে সরাসরি বিচার করার জন্য নয়; বরং নিজের অবস্থা যাচাই করার জন্য। যে সালাত ভারী লাগে, সে সালাতের প্রতি বেশি মনোযোগ দেওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইশা ও ফজর সালাত অবহেলা করা উচিত নয়।
- মুনাফিকদের জন্য এ দুই সালাত ভারী বলা হয়েছে।
- সালাত কঠিন লাগলে নিজের আমল ঠিক করার চেষ্টা দরকার।
- জামাআতে সালাতে আসার জন্য আগ্রহ থাকা উচিত।
