৪/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬৫-[১২] - একাকী আযান ও সালাতের মর্যাদা
আজানের ফজিলত ও মুয়াজ্জিনের উত্তর দান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
নির্জনে আযান ও সালাত: আল্লাহভীতির পরিচয়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬৬৫-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬৬৫-[১২]
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَعْجَبُ رَبُّكَ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ شَظِيَّةِ الْجَبَلِ يُؤَذِّنُ بِالصَّلَاةِ وَيُصَلِّي فَيَقُولُ اللّهُ عَزَّ وَجَلَّ انْظُرُوْا إِلى عَبْدِي هذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ يَخَافُ مِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَآئِىُّ
‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমার রব সেই মেষপালক রাখালের উপর খুশি হন, যে একা পর্বত চূড়ায় দাঁড়িয়ে সালাতের জন্য আজান দেয় ও সালাত আদায় করে। আল্লাহ তাআলা সে সময় তাঁর মালাকগণকে বলেন, তোমরা আমার এই বান্দার দিকে তাকাও। সে আমাকে ভয় করে (এই পর্বত চূড়ায়) আজান দেয় ও সালাত আদায় করে। তোমরা সাক্ষী থাক আমি আমার বান্দাকে মাফ করে দিলাম এবং জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দিলাম। [১]
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ১২০৩, নাসায়ী ৬৬৬, ‘ইরওয়া ২১৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬৫-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক রাখালের কথা এসেছে, যে পাহাড়ের চূড়ায় একা অবস্থায় সালাতের জন্য আযান দেয় এবং সালাত আদায় করে। মানুষের ভিড় নেই, বাহবা নেই, তবুও সে আল্লাহকে ভয় করে ইবাদত করছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আল্লাহ তাআলা তাঁর মালাকদের সামনে সেই বান্দার কথা উল্লেখ করেন। আল্লাহ বলেন, আমার এই বান্দার দিকে তাকাও; সে আমাকে ভয় করে আযান দেয় ও সালাত কায়েম করে। এরপর হাদিসে ক্ষমা ও জান্নাতে প্রবেশ করানোর সুসংবাদ এসেছে। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, নির্জনে ইবাদত, আযান ও সালাত শুধু প্রকাশ্য আমল নয়; বরং অন্তরের আল্লাহভীতিরও পরিচয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নির্জনে থেকেও সালাতের গুরুত্ব ধরে রাখা মুমিনের সুন্দর গুণ।
- আযান ও সালাত আল্লাহভীতির প্রকাশ হতে পারে।
- মানুষ না দেখলেও আল্লাহ বান্দার আমল দেখেন।
- একাকী অবস্থায় ইবাদত করা আন্তরিকতার পরিচয় বহন করে।
