৪/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬৪-[১১] - সাওয়াবের আশায় আযানের ফজিলত
আজানের ফজিলত ও মুয়াজ্জিনের উত্তর দান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সাওয়াবের আশায় আযান দেওয়ার মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬৬৪-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬৬৪-[১১]
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ مَنْ أَذَّنَ سَبْعَ سِنِينَ مُحْتَسِبًا كُتِبَتْ لَه بَرَاءَةٌ مِنْ النَّارِ. رَوَاهُ التِّرْمِذِىُّ وأبو دَاؤُدَ وَاِبْنُ مَاجَةَ
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি (পারিশ্রমিক ও বিনিময়ের লোভ বাদ দিয়ে) শুধু সওয়াব লাভের আশায় সাত বছর পর্যন্ত আজান দেয় তার জন্য জাহান্নামের মুক্তি লিখে দেয়া হয়। [১]
[১] খুবই দুর্বল : তিরমিযী ২০৬, ইবনু মাজাহ্ ৭২৭, সিলসিলাহ্ আয্ য‘ঈফাহ্ ৮৫০। তবে আবূ দাঊদে হাদীসটি নেই। কারণ এর সনদে জাবির বিন ইয়াযীদ আল্ জুযফী একজন দুর্বল রাবী, বরং কিছু ইমাম তাকে মিথ্যুক বলেছেন। সে রাফিযী ছিল।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬৪-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুয়াযযিনের কাজের একটি বড় ফজিলত বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি সাওয়াবের আশায় সাত বছর আযান দেয়, তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লিখে দেওয়া হয়। এখানে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো ‘মুহতাসিবান’—অর্থাৎ আল্লাহর কাছে সাওয়াবের আশা নিয়ে কাজ করা। তাই শুধু কাজ করা নয়, নিয়তও গুরুত্বপূর্ণ। আযান মানুষের কাছে সালাতের ডাক পৌঁছে দেয়। কেউ যদি এই কাজকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিয়মিত করে, তার জন্য হাদিসে বড় আশার কথা এসেছে। তবে এই শিক্ষা থেকে বুঝতে হবে, ইবাদতের কাজের মূল্য আল্লাহর কাছে তখনই বেশি হয়, যখন তা আন্তরিকতা ও সাওয়াবের আশায় করা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযান দেওয়া আল্লাহর দিকে মানুষকে ডাকবার একটি সম্মানিত কাজ।
- সাওয়াবের আশায় আমল করলে কাজের মূল্য বাড়ে।
- নিয়মিতভাবে ভালো কাজ ধরে রাখা বড় ফজিলতের কারণ হতে পারে।
- ইবাদতের কাজে পারিশ্রমিকের লোভ নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
