৪/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬৩-[১০] - ইমাম ও মুয়াযযিনের দায়িত্ব
আজানের ফজিলত ও মুয়াজ্জিনের উত্তর দান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ইমাম যিম্মাদার, মুয়াযযিন আমানতদার
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬৬৩-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬৬৩-[১০]
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْإِمَامُ ضَامِنٌ وَالْمُؤَذِّنُ مُؤْتَمَنٌ اَللّهُمَّ أَرْشِدْ الْأَئِمَّةَ وَاغْفِرْ لِلْمُؤَذِّنِينَ.رَوَاهُ أَحْمَدُ وَأَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِىُّ وَالشَّافِعِيُّ وِفِي اُخْرى لَه بِلَفْظِ الْمَصَابِيْح
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : ইমাম জিম্মাদার আর মুয়াজ্জিন আমানতদার। তারপর তিনি (ﷺ) এই দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! তুমি ইমামদেরকে হিদায়াত দান কর। আর মুয়াজ্জিনদেরকে মাফ করে দাও”। [১]
[১] সহীহ : আহমাদ ৯৬২৬, আবূ দাঊদ ৫১৭, তিরমিযী ২০৭, মুসনাদে শাফি‘ঈ ১৭৪। আহমাদ ২/৪১৯।ইমাম শাফি‘ঈর শব্দ হলো اَلْاَئِمَّةُ ضُمَنَاءُ وَالْمُؤَذِّنُوْنَ أُمَنَاءُ فَارْشُدْ اَللّهُمَّ...।তবে ইমাম শাফি‘ঈর সনদটি দুর্বল। কারণ তাতে ইব্রাহীম ইবনু মুহাম্মাদ আল আসলামী রয়েছে যিনি একজন মাতরূক (পরিত্যক্ত) রাবী।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬৩-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইমাম ও মুয়াযযিনের দায়িত্বকে খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, ইমাম যিম্মাদার আর মুয়াযযিন আমানতদার। ইমাম সালাতে মানুষের নেতৃত্ব দেন, তাই তাঁর দায়িত্বের মধ্যে সতর্কতা ও সঠিকভাবে সালাত পরিচালনার বিষয় আছে। আর মুয়াযযিন মানুষকে সালাতের দিকে ডাকেন, তাই তাঁর কাজও আমানতের মতো। আযান সময়মতো দেওয়া, মানুষকে আল্লাহর দিকে আহ্বান করা—এসব কাজে আন্তরিকতা দরকার। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم দোয়া করেছেন, হে আল্লাহ! ইমামদের হিদায়াত দাও এবং মুয়াযযিনদের মাফ করে দাও। এতে বোঝা যায়, মসজিদের এসব দায়িত্ব শুধু পদ নয়; এগুলো আল্লাহর সামনে জবাবদিহির কাজ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামের দায়িত্ব সালাতের নেতৃত্বের কারণে গুরুতর।
- মুয়াযযিনের কাজ আমানতের মতো, তাই সততা ও সতর্কতা জরুরি।
- ইমাম ও মুয়াযযিনের জন্য দোয়া করা সুন্নাহসম্মত সুন্দর আচরণ।
- ধর্মীয় দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা আল্লাহর সাহায্য ও ক্ষমার মুখাপেক্ষী।
