৪/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৭৭৯-[৮] - নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের সালাতে আয়িশা (রা.)
সালাতে সুতরা (সুতরা) - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে সুতরার বর্ণনা এসেছে। আর সুতরাহ্ (সুতরা) হলো, সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়কারী তার সামনে যা পুঁতে রাখে। সেটা লাঠি অথবা তীর অথবা অন্য কিছু হতে পারে। এটা দেয়ার উদ্দেশ্য হলো, সালাত আদায়কারীর সাজদার জায়গার ভেতর দিয়ে যাতে কেউ যাতায়াত না করে এবং মুসল্লীর দৃষ্টি এর বাইরে না যায়। ইবনুল হুমাম ফাতহুল কাদীরে উল্লেখ করেন, সুতরার উদ্দেশ্য হলো সালাত আদায়কারীর মনোযোগকে একনিষ্ঠ করে রাখা।
রাতের সালাতে আয়িশা (রা.) সামনে শুয়ে থাকা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৭৭৯-[৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৭৭৯-[৮]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ النَّبِيَّ ﷺ يُصَلِّـي مِنْ اللَّيْلِ وَأَنَا مُعْتَرِضَةٌ بَيْنَه وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ كَاعْتِرَاضِ الْجَنَازَةِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) রাতে সালাত আদায় করতেন। আমি তাঁর ও কেবলার মাঝখানে শুয়ে থাকতাম আড়াআড়িভাবে লাশ পড়ে থাকার মতো। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৫১৫, মুসলিম ৫১২, ইবনু মাজাহ্ ৯৫৬, আহমাদ ২৪০৮৮। (হাদীসটি সহীহ: বুখারী ৫১৫, মুসলিম ৫১২।)
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৭৭৯-[৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রা.) নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের সালাতের একটি বিশেষ দৃশ্য বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم রাতে সালাত আদায় করতেন, আর তিনি নবী صلى الله عليه وسلم ও কিবলার মাঝখানে আড়াআড়িভাবে শুয়ে থাকতেন, যেমন জানাযা রাখা হয়। এখানে মূল বিষয় হলো, সামনে দিয়ে চলাচল আর সামনে স্থিরভাবে শুয়ে থাকা—এই দুটি অবস্থা এক নয়। হাদিসের ভাষা থেকে এতটুকুই বোঝা যায় যে, আয়িশা (রা.) শুয়ে থাকা অবস্থায় নবী صلى الله عليه وسلم রাতের সালাত আদায় করেছেন। এটি সালাতের সামনে অবস্থান, রাতের নামাজ, আয়িশা (রা.)-এর বর্ণনা—এসব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই হাদিস দিয়ে অন্য সব বর্ণনার ওপর নিজে থেকে বাড়তি সিদ্ধান্ত দেওয়া ঠিক নয়। সরাসরি শিক্ষা হলো, নবী صلى الله عليه وسلم-এর ঘরের বাস্তব অবস্থায় সালাতের এমন দৃশ্য ঘটেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم রাতের সালাত আদায় করতেন।
- আয়িশা (রা.) তাঁর ও কিবলার মাঝখানে আড়াআড়ি শুয়ে থাকতেন।
- সামনে স্থিরভাবে থাকা ও সামনে দিয়ে চলাচল আলাদা বিষয় হতে পারে।
- হাদিস বুঝতে সরাসরি বর্ণনার সীমা রক্ষা করা দরকার।
