৪/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮০০-[১১] - দীর্ঘ কিয়ামের ফজিলত
সালাতের নিয়ম-কানুন - প্রথম অনুচ্ছেদ
صِفَةُ الصَّلَاةِএর অর্থ সালাতের গুণাগুন, বৈশিষ্ট্য, বিবরণ, বর্ণনা ইত্যাদি। এখানে উদ্দেশ্য হলো সালাতের যাবতীয় বিধি-বিধান। যেমন আরকাম, আহকাম, সুন্নাত, মুসতাহাব, ওয়াজিব ইত্যাদি। ইমাম ইবনু হুমাম এর মতেصِفَةٌওوَصْفٌএর মধ্যে অর্থের কোন ব্যবধান নেই। তবে এখানেوَصْفٌএর মর্মার্থ হলো সালাতের প্রকৃত কাজ-কর্ম যেমন ক্বিয়াম (কিয়াম), রুকূ‘, সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) ইত্যাদি অধ্যায়ে আলোচিত হবে।
দীর্ঘ কিয়ামসহ সালাতের মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮০০-[১১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮০০-[১১]
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَفْضَلُ الصَّلَاةِ طُولُ الْقُنُوت. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ সর্বোত্তম সালাত হল দীর্ঘ কিয়াম (দাঁড়ানো) সম্বলিত সালাত। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৭৫৬, তিরমিযী ৩৮৭, ইবনু মাজাহ্ ১৪২১, ইরওয়া ৪৫৮, সহীহ আল জামি‘ ১১৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮০০-[১১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির রাঃ বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, সর্বোত্তম সালাত হলো দীর্ঘ কিয়াম সম্বলিত সালাত। হাদিসটি খুব সংক্ষিপ্ত, কিন্তু এর শিক্ষা গভীর। কিয়াম মানে সালাতে দাঁড়িয়ে থাকা। দাঁড়িয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা, আল্লাহর সামনে বিনয় নিয়ে থাকা এবং সালাতকে সময় দিয়ে আদায় করা—এসব বিষয় দীর্ঘ কিয়ামের সাথে সম্পর্কিত। হাদিসে শুধু দীর্ঘ কিয়ামের কথা এসেছে, তাই এটিকে অন্য সব দিক বাদ দিয়ে একমাত্র মানদণ্ড বলা ঠিক নয়। বরং এই বর্ণনা দেখায়, সালাতে দাঁড়ানোর অংশটি বড় মর্যাদার হতে পারে। যারা নফল সালাত বা একান্ত ইবাদতে সময় দিতে চান, তাদের জন্য এই হাদিস উৎসাহ দেয়। তবে সালাতের অন্য ধাপ—রুকু, সিজদা, স্থিরতা—এসবও নিজের জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ, যেমন অন্য বর্ণনাগুলোতে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দীর্ঘ কিয়াম সম্বলিত সালাতের বিশেষ মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে।
- সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর সামনে সময় দেওয়া প্রশংসনীয়।
- হাদিসের ভাষা অনুযায়ী কিয়ামের গুরুত্ব বোঝা উচিত।
- দীর্ঘ কিয়াম করতে গেলে সালাতের স্থিরতা ও আদবও বজায় রাখা দরকার।
