৪/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮০৪-[১৫] - সালাতে ধীরস্থিরতার শিক্ষা
সালাতের নিয়ম-কানুন - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সালাতে ধীরস্থিরতা: রুকু ও সিজদার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮০৪-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮০৪-[১৫]
وَعَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ فَصَلّى فِى الْمَسْجِدِ ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ النَّبِيِّ ﷺ اَعِدْ صَلَاتَكَ فَاِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ فَقَالَ عَلِّمْنِىْ يَا رَسُوْلَ اللهِ كَيْفَ اُصَلِّىْ قَالَ إِذَا رَكَعْتَ فَاجْعَلْ رَاحَتَيْكَ عَلى رُكْبَتَيْكَ وَمَكِّنْ رُكُوْعَكَ وَامْدُدْ ظَهْرَكَ فَاِذَا رَفَعْتَ فَاَقِمْ صُلْبَكَ وَارْفَعْ رَأسَكَ حَتّى تَرْجِعَ الْعِظَامُ اِلى مَفَاصِلِهَا فَاِذَا سَجَدْتَ فَمَكِّنْ لِّلسُّجُوْدِ فَاِذَا رَفَعْتَ فَاجْلِسْ عَلى فَخِذِكَ الْيُسْرى ثُمَّ اصْنَعْ ذلِكَ فِىْ كُلِّ رَكْعَةٍ وَّسَجْدَةٍ حَتّى تَطْمَئِنَّ هذَا لَفْظُ الْمَصَابِيْحِ.وَرَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ مَعَ تَغْيِيْرٍ يَّسِيْرٍ وَّرَوَى التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِـيُِّ مَعْنَاهُ وَفِىْ رِوَايَةٍ لِلتِّرْمِذِيُّ قَالَ إِذَا قُمْتَ اِلَى الصَّلَاةِ فَتَوَضَّأ كَمَا اَمَرَكَ اللهُ بِه ثُمَّ تَشَهَّدْ فَاَقِمْ فَاِنْ كَانَ مَعَكَ قُرْانٌ فَاقْرَأ وَاِلَّا فَأَحْمَدِ اللهَ وَكَبِّرْهُ وَهَلِّلِهُ ثُمَّ ارْكَعْ
রিফা'আহ্ ইবনু রাফি' (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি মসজিদে এসে সালাত আদায় করল। তারপর নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে তাঁকে সালাম জানালেন। নবী (ﷺ) সালামের উত্তর দিয়ে বললেন, তুমি আবার সালাত আদায় কর। তোমার সালাত হয়নি। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কিভাবে সালাত আদায় করব তা আমাকে শিখিয়ে দিন। নবী (ﷺ) বললেন, তুমি কেবলামুখি হয়ে প্রথমে তাকবির বলবে। তারপর সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। এর সাথে আর যা পার (ক্বুরআন থেকে) পড়ে নিবে। তারপর রুকু’ করবে। (রুকু’তে) তোমার দুই হাতের তালু তোমার দুই হাটুর উপর রাখবে। রুকু’তে প্রশান্তিতে থাকবে এবং পিঠ সটান সোজা রাখবে। রুকু’ হতে উঠে পিঠ সোজা করে মাথা তুলে দাঁড়াবে যাতে হাড়গুলো নিজ নিজ যায়গায় এসে যায়। তারপর সিজদা করবে। সিজদায় প্রশান্তির সাথে থাকবে। [৮২০](হাদিসের মুল পাঠ মাসাবীহ থেকে গৃহীত। এ হাদীসটি আবূ দাঊদ সামান্য শাব্দিক পার্থক্যসহ বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী, নাসায়িও প্রায় অনুরূপ বর্ণনা করেছেন) তিরমিযীর বর্ননায় আছে, নবী (ﷺ) বলেছেন, সালাতের জন্য দাঁড়াতে ইচ্ছা করলে আল্লাহ যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে উযু করবে। এরপর কালিমা শাহাদাত পাঠ করবে। ‘ইক্বামাত বলবে (সালাত শুরু করবে)। তোমার ক্বুরআন জানা থাকলে তা পড়বে, অন্যথায় আল্লাহর ‘হামদ’, তাকবির, তাহলীল করবে। তারপর রুকু’ করবে। [১]
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৮৫৯, ৮৬০, আহমাদ ১৮৫১৬, সহীহ আল জামি‘ ৩২৪।[২] সহীহ : তিরমিযীর অপর বর্ণনাটিও সহীহ। তিরমিযী ৩০২। তবে তিরমিযীর বর্ণনাটি সহীহ-এর স্তরের।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮০৪-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি মসজিদে এসে সালাত আদায় করে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে সালাম দেন। নবীজি সালামের উত্তর দিয়ে বলেন, আবার সালাত আদায় করো, কারণ তোমার সালাত হয়নি। লোকটি তখন শিখতে চায়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে কিবলামুখী হয়ে তাকবির বলা, সূরা ফাতিহা পড়া, কুরআন থেকে যা পারে পড়া, এরপর রুকু করা, দুই হাত হাঁটুর উপর রাখা, রুকুতে স্থির থাকা, পিঠ সোজা রাখা, রুকু থেকে উঠে সোজা দাঁড়ানো এবং সিজদায় প্রশান্ত থাকা শেখান। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সালাত শুধু দ্রুত কিছু কাজের নাম নয়; রুকু, সিজদা, দাঁড়ানো ও বসার মধ্যে স্থিরতা থাকতে হবে। সালাতে ধীরস্থিরতা এবং অঙ্গগুলো নিজ জায়গায় আসা এখানে সরাসরি গুরুত্ব পেয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে তাড়াহুড়া করলে তা ঠিকভাবে আদায় না হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- রুকুতে হাত হাঁটুর উপর রেখে পিঠ সোজা করা শেখানো হয়েছে।
- রুকু থেকে উঠে পুরোপুরি সোজা দাঁড়ানো দরকার।
- সিজদায় প্রশান্তি ও স্থিরতা সালাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
