৪/১১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮১৬-[৫] - বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তি নিয়ে মন্তব্য
তাকবীরে তাহরিমার পর যা পড়তে হয় - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
হাদিসের সনদে স্মরণশক্তি নিয়ে সতর্ক মন্তব্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮১৬-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮১৬-[৫]
وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَةَ عَنْ اَبِىْ سَعِيْدٍ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ هذَا حَدِيْثٌ لَّا نَعْرِفُه اِلَّا مِنْ حَارِثَةَ وَقَدْ تُكُلِّمَ فِيْهِ مِنْ قِبَلِ حِفْظِه
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আর ইবনু মাজাহও এ হাদীসটি আবূ সা’ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী বলেছেন, এ হাদীসটি আমি হারিসাহ্ ছাড়া অন্য কারও সূত্রে শুনিনি। তার স্মরণশক্তি সমালোচিত। [১]
[১] সহীহ : ইবনু মাজাহ্ ৮০৪। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ ইমাম তিরমিযী ছাড়া অন্যরা হারিসাহ্ ছাড়াও অন্যদের সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। যেমন- ইমাম আবূ দাঊদ ও দারাকুত্বনী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে অন্য সূত্রে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন যার রাবীগণ বিশ্বস্ত। আর এ উভয় সানাদে হাদীসটি শক্তিশালী হয়েছে। যেহেতু আবূ সা‘ঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত এর একটি সহীহ শাহিদ রয়েছে।আবূ দাঊদ ও অন্যগুলোতে অতিরিক্ত রয়েছেঃ ثُمَّ يَقُوْلُ : لَا اِلهَ اِلَّا اللهُ ثَلَاثًا، ثُمَّ يَقُوْلُ اللهُ اَكْبَرُ ثَلَاثًا، اَعُوْذُ بِاللهِ السَّمِيْعِ الْعَلِيْمِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ مِنْ حَمْزِه وَنَفْخِه وَنَفْثِه، ثُمَّ يَقْرأ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮১৬-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনাটি মূলত আগের দোয়ার হাদিসের একটি সনদ-সংক্রান্ত মন্তব্য। এখানে বলা হয়েছে, ইবনু মাজাহও এ হাদিসটি আবূ সাঈদ (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এরপর ইমাম তিরমিযী বলেন, তিনি এই হাদিসটি হারিসাহ ছাড়া অন্য কারও সূত্রে জানেন না। আরও বলা হয়েছে, হারিসাহর স্মরণশক্তি নিয়ে কথা বলা হয়েছে। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা সরাসরি কোনো নতুন আমল নয়; বরং হাদিস গ্রহণে বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তি ও সনদের অবস্থার দিকে নজর দেওয়ার শিক্ষা। ইসলামী জ্ঞান শেখার সময় শুধু সুন্দর ভাষা বা পরিচিত দোয়া দেখলেই যথেষ্ট নয়; বর্ণনার মান সম্পর্কেও আলেমরা কথা বলেছেন। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বাড়তি দাবি না করে বলা যায়, এখানে মুহাদ্দিসদের সতর্ক গবেষণার একটি দিক ফুটে উঠেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিসের ক্ষেত্রে সনদ ও বর্ণনাকারীর অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।
- বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তি নিয়ে আলেমদের মন্তব্য বিবেচনায় নেওয়া হয়।
- একটি দোয়া বা আমল সুন্দর হলেও বর্ণনার মান জানা দরকার।
- ইমাম তিরমিযীর মতো মুহাদ্দিসরা সূত্র সম্পর্কে সতর্ক মন্তব্য করেছেন।
