৪/১১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮১৭-[৬] - সালাতে শয়তান থেকে আশ্রয়
তাকবীরে তাহরিমার পর যা পড়তে হয় - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
তাকবিরের পর তাসবীহ ও শয়তান থেকে আশ্রয়ের দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮১৭-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮১৭-[৬]
عَنْ ابْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ أَنَّه رَأَى رَسُولَ اللهِ ﷺ يُصَلِّىْ صَلَاةً قَالَ اللّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا اللّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا اللّهُ أَكْبَرُ كَبِيرًا وَالْحَمْدُ لِلّهِ كَثِيرًا وَالْحَمْدُ لِلّهِ كَثِيرًا وَالْحَمْدُ لِلّهِ كَثِيرًا وَسُبْحَانَ اللهِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا ثَلَاثًا، اَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ، مِنْ نَفْخِه وَنَفْثِه وَهَمْزِه.- رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَابْنُ مَاجَةَ اِلَّا اَنَّه لَمْ يَذْكُرْ وَالْحَمْدُ للهِ كَثِيْرًا وَّذَكَرَ فِىْ اَخِرِه مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ وَقَالَ عُمَرُ وَنَفْخُهُ الْكِبْرُ وَنَفْثُهُ الشِّعْرُ وَهَمْزُهُ الْمُؤتَةُ
জুবায়র ইবনু মুত’ইম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে সালাত আদায় করতে দেখেছেন। তিনি তাকবির তাহরীমার পর বললেনঃ “আল্ল-হু আকবার কাবীরা-, আল্ল-হু আকবার কাবীরা-, আল্ল-হু আকবার কাবীরা-, ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি কাসীরা-, ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি কাসীরা-, ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি কাসীরা-, ওয়া সুবহা-নাল্ল-হি বুক্রাতাওঁ ওয়াআসীলা-” তিনবার বললেন।তারপর বলেছেন, “আ‘ঊযু বিল্লা-হি মিনাশ্ শাইত্ব-নির রজীম মিন নাফ্খিহী ওয়া নাফ্সিহী ওয়া হাম্যিহী”। কিন্তু তিনি “ওয়ালহাম্দু লিল্লা-হি কাসীরা-” উল্লেখ করেননি। তাছাড়া তিনি শেষ দিকে শুধু “মিনাশ্ শাইত্ব-নির রজীম” বর্ণনা করেছেন। উমর (রাঃ) বলেছেন, نَفْخٌ (নাফ্খ) অর্থ অহমিকা, نَفْثٌ (নাফস) অর্থ কবিতা, আর هَمْزٌ (হাম্য) অর্থ পাগলামি। [১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৭৬৪, ইবনু মাজাহ ৮০৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮১৭-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু জুবাইর ইবনু মুতইম নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে সালাত আদায় করতে দেখার কথা বলেছেন। তিনি তাকবিরে তাহরীমার পর কয়েকবার ‘আল্লাহু আকবার কাবীরা’, ‘আলহামদু লিল্লাহি কাসীরা’ এবং ‘সুবহানাল্লাহি বুকরাতাওঁ ওয়া আসীলা’ বলেছেন। এরপর তিনি শয়তানের নাফখ, নাফস ও হাময থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। বর্ণনায় উমর (রাঃ)-এর ব্যাখ্যাও এসেছে—নাফখ অর্থ অহমিকা, নাফস অর্থ কবিতা, আর হাময অর্থ পাগলামি। এই হাদিস সালাতের শুরুতে আল্লাহর বড়ত্ব, প্রশংসা, তাসবীহ এবং শয়তানের খারাপ প্রভাব থেকে আশ্রয় চাওয়ার শিক্ষা দেয়। এতে সালাতের আগে মনকে অহংকার, ভুল চিন্তা ও বিঘ্ন থেকে রক্ষা করার ভাব দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের শুরুতে আল্লাহর বড়ত্ব ও প্রশংসা বলা বর্ণিত হয়েছে।
- শয়তানের খারাপ প্রভাব থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া উচিত।
- অহমিকা থেকে বাঁচার বিষয়টি বর্ণনার ব্যাখ্যায় এসেছে।
- সালাতের শুরুতে মনকে পবিত্র ও একাগ্র করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
