৪/১১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮১৮-[৭] - সালাতে দুই নীরবতার স্থান
তাকবীরে তাহরিমার পর যা পড়তে হয় - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সালাতে দুই নীরবতা: তাকবিরের পর ও ফাতিহার শেষে
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮১৮-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮১৮-[৭]
وَعَنْ سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ أَنَّهُ حَفِظَ عَنْ رَسُولِ اللهِ ﷺ سَكْتَتَيْنِ سَكْتَةً إِذَا كَبَّرَ وَسَكْتَةً إِذَا فَرَغَ مِنْ قِرَاءَةِ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ فَصَدَّقَه اُبَىِّ بْنِ كَعْبِ.رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَرَوَى التِّرْمِذِيُّ وَابْن مَاجَةَ وَالدَّارِمِيُّ نَحْوَه
সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে দুইটি নীরবতার স্থান স্মরণ রেখেছেন। একটি নীরবতা তাঁর তাকবিরে তাহরীমা বাঁধার পর, আর একটি নীরবতা হল, “গয়রিল মাগ্যূবি ‘আলায়হিম ওয়ালায্ যোয়াল্লীন” পাঠ করার পর। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ)-ও তাঁর বক্তব্য সমর্থন করেন। [১]
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৭৭৯, ইরওয়া ৫০৫, দারিমী ১২৭৯। কারণ এটি সামুরাহ্ (রাঃ) হতে হাসান বসরীর বর্ণনা। আর এটি সামুরাহ্ (রাঃ) হতে হাসান আল বসরীর হাদীস শ্রবণ বিষয়ক কোন প্রসিদ্ধ মতবিরোধ নয় কারণ তিনি সামুরাহ্ (রাঃ) হতে কিছু হাদীস শ্রবণ করেছেন। বরং এটি এই কারণে যে, হাসান আল বসরী (রহঃ) যদিও একজন মর্যাদাবান ব্যক্তি কিন্তু মুদাল্লিস ‘আন্‘আনাহ্ সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন। অতএব তাঁর শায়খ থেকে কেবলমাত্র শ্রবণটা এক্ষেত্রে উপকারে আসবে না বরং শ্রবণের বিষয়টি স্পষ্ট করা আবশ্যক।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮১৮-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সামুরাহ ইবনু জুনদুব (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) থেকে দুইটি নীরবতার স্থান স্মরণ রেখেছেন। একটি নীরবতা ছিল তাকবির বলার পর। আরেকটি ছিল সূরা ফাতিহার শেষ অংশ ‘গয়রিল মাগযূবি আলাইহিম ওয়ালাদ্দাল্লীন’ পাঠ শেষ করার পর। উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) তাঁর কথাকে সমর্থন করেছেন। এই হাদিস সালাতের নীরবতা, কিরাআতের বিরতি এবং তাকবিরের পরের সময় সম্পর্কে একটি বর্ণনা দেয়। তবে এখানে নীরবতার দৈর্ঘ্য বা বিস্তারিত দোয়া বলা হয়নি। তাই ব্যাখ্যা সীমিতভাবে বলা যায়, সালাতে কিছু জায়গায় নবীজি নীরব থাকতেন বলে বর্ণিত হয়েছে। সালাতের কিরাআত ও বিরতির আদব বোঝার ক্ষেত্রে এটি প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাকবিরের পর একটি নীরবতার বর্ণনা এসেছে।
- সূরা ফাতিহা শেষ করার পরও একটি নীরবতার কথা এসেছে।
- সাহাবী উবাই ইবনু কা‘ব এই বক্তব্য সমর্থন করেছেন।
- সালাতে কিরাআত ও বিরতির আদব শেখা গুরুত্বপূর্ণ।
