৪/১২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৫০-[২৯] - জুমুয়ার রাত শব্দের অনুল্লেখ
সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
একই বর্ণনায় জুমুয়ার রাত শব্দ না থাকার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৫০-[২৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৫০-[২৯]
وَرَوَاهُ ابْنُ مَاجَةَ عَنِ ابْنِ عُمَرَ اِلَّا اَنَّه لَمْ يَذْكُرْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু মাজাহ্ এ হাদীসটি ইবনু উমর (রাঃ) হতে নকল করেছেন। কিন্তু এতে “লায়লাতুল জুমু’আহ্” (অর্থাৎ- জুমার রাত) উল্লেখ নেই। [১]
[১] য‘ঈফ : ইবনু মাজাহ্ ৮৩৩। ইবনু মাজাহ্ হাদীসটি তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন। তার শিক্ষক আহমাদ ইবনু বুদায়ল ব্যতীত বাকি সকল রাবীগণ বিশ্বস্ত, বুখারীর রাবী। তার (আহমাদ ইবনু বুদায়ল) মধ্যে স্মৃতিশক্তিজনিত ত্রুটি রয়েছে। ইমাম নাসায়ী বলেনঃ তার কোন সমস্যা নেই। আর ইবনু ‘আদী বলেনঃ তিনি (আহমাদ ইবনু বুদায়ল) হাফস্ ইবনু গিয়াস এবং আরো অনেকের থেকে কতগুলো হাদীস বর্ণনা করেছে যেগুলো আমার মতে মুনকার। আলবানী (রহঃ) বলেনঃ তার (আহমাদ) এ হাদীসটি হাফস্ ইবনু গিয়াস থেকে। ইবনু হাজার ফাতহুল বারীতে বলেনঃ যদিও সানাদটি বাহ্যিকভাবে সহীহ কিন্তু মূলত তা মা‘লুল (দোষযুক্ত)।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৫০-[২৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত বর্ণনায় বলা হয়েছে, ইবনু মাজাহ এই হাদিসটি ইবনু উমর (রাঃ) থেকে নকল করেছেন; তবে সেখানে “লায়লাতুল জুমু’আহ” বা জুমুয়ার রাতের কথা উল্লেখ নেই। এর মাধ্যমে হাদিসের বর্ণনায় শব্দের পার্থক্য লক্ষ্য করার একটি সুন্দর দিক সামনে আসে। মূল আলোচনার সঙ্গে আগের বর্ণনায় মাগরিবের সালাতে সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাস পাঠের কথা এসেছে। কিন্তু এই বর্ণনায় একটি নির্দিষ্ট শব্দ না থাকার কথা আলাদা করে জানানো হয়েছে। তাই হাদিস পড়ার সময় কোন বর্ণনায় কী শব্দ আছে, আর কোথায় কোন শব্দ নেই—এ বিষয়টি বুঝে পড়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাদিসের বর্ণনায় শব্দের পার্থক্য থাকতে পারে।
- এই বর্ণনায় জুমুয়ার রাত শব্দটি উল্লেখ নেই।
- বর্ণনার অতিরিক্ত শব্দ বা অনুল্লেখ বুঝে নেওয়া দরকার।
- হাদিস অধ্যয়নে সংক্ষিপ্ত নোটও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
