৪/১৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৭০-[৩] - রুকুর পর দীর্ঘ দাঁড়ানো
রুকু - প্রথম অনুচ্ছেদ
রুকূ‘ সালাতের অন্যতম রুকন যা কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মাতের ইজমা থেকে প্রমাণিত। রুকূ‘র শাব্দিক অর্থاِلْاِنْحِنَاءُতথা মাথা ঝুকানো/নত করা এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য বিনয়ী হওয়া। বলা হয় কোন কোন তাফসীরকারকের মতে এ উম্মাতের জন্য ৩টি একটি (রুকূ‘) বিশেষ বৈশিষ্ট্য। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَارْكَعُوْا مَعَ الرَّاكِعِيْنَ’‘তোমরা রুকূ‘কারীদের সাথে রুকূ‘ কর’’, আর এ বিষয়টি এজন্য যে, ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের সালাতে রুকূ‘ নেই এবং রুকূ‘ মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তার উম্মাতের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আর রুকূ‘ দ্বারা উদ্দেশ্য ’‘সালাত’’। যেমন আল্লাহ বলেন,وَارْكَعُوْا مَعَ الرَّاكِعِيْنَ’’(হে মারইয়াম (আঃ)!) তুমি মুসল্লীদের সাথে সালাত আদায় কর’’- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ৪৩)।প্রতি রাক্‘আতে রুকূ‘ হওয়ার হিকমাত হলো রুকূ‘ই হচ্ছে সাজদার জন্য ভূমিকা স্বরূপ যা সর্বোচ্চ বিনয়। আর সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) দু’বার হওয়ার উদ্দেশ্য এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। আবার অনেকে অন্য কথাও বলেছেন, তবে এ কথা সুস্পষ্ট এটি একটি ‘ইবাদাত।
রুকুর পর দাঁড়ানো ও দুই সিজদার মাঝের স্থিরতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৭০-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৭০-[৩]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا قَالَ سَمِعَ اللّهُ لِمَنْ حَمِدَه قَامَ حَتّى تَقُولَ قَدْ أَوْهَمَ ثُمَّ يَسْجُدُ وَيَقْعُدُ بَيْنَ السَّجْدَتَيْنِ حَتّى تَقُولَ قَدْ أَوْهَمَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন “সামি’আল্লা-হু লিমান হামিদাহ” বলতেন, সোজা হয়ে এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতেন, আমরা মনে করতাম নিশ্চয়ই তিনি (সিজদার কথা) ভুলে গেছেন। এরপর তিনি সিজদা করতেন ও দুই সিজদার মধ্যে এত লম্বা সময় বসে থাকতেন, আমরা মনে করতাম, তিনি (নিশ্চয় দ্বিতীয় সিজদার কথা) ভুলে গেছেন। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৪৭৩, আবূ দাঊদ ৮৫৩, ইরওয়া ৩০৭। হাদীসে قَدْ أَوْهَمَ -এর অর্থ হলো রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকূ‘ থেকে উঠে এত দীর্ঘ সময় দাঁড়াতেন যে, মনে হতো তিনি সে রাক্‘আতটি বাতিল করে পুনরায় সালাত শুরু করবেন।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৭০-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের স্থিরতা বর্ণনা করেছেন। তিনি যখন সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ বলতেন, তখন সোজা হয়ে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতেন যে কেউ ভাবতে পারত তিনি সিজদার কথা ভুলে গেছেন। এরপর তিনি সিজদা করতেন এবং দুই সিজদার মাঝেও এতক্ষণ বসতেন যে কেউ ভাবতে পারত তিনি দ্বিতীয় সিজদার কথা ভুলে গেছেন। এখানে রুকুর পর দাঁড়ানো, দুই সিজদার মাঝের বসা এবং সালাতে ধীরতা—এসব বিষয় স্পষ্ট। হাদিসটি আমাদের শেখায়, সালাতের ভেতরের অবস্থানগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে আদায় করতে হয়। শুধু রুকু ও সিজদা নয়; মাঝের অবস্থানেও শান্তি ও স্থিরতা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকু থেকে উঠার পর সোজা দাঁড়ানো সালাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
- দুই সিজদার মাঝের বসায়ও স্থিরতা থাকা দরকার।
- নবীজির সালাত তাড়াহুড়ামুক্ত ও শান্ত ছিল।
- মাঝের ভঙ্গিগুলো অবহেলা করলে সালাতের সৌন্দর্য কমে যায়।
