৪/১৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৭১-[৪] - রুকু-সিজদার ক্ষমার দোয়া
রুকু - প্রথম অনুচ্ছেদ
রুকূ‘ সালাতের অন্যতম রুকন যা কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মাতের ইজমা থেকে প্রমাণিত। রুকূ‘র শাব্দিক অর্থاِلْاِنْحِنَاءُতথা মাথা ঝুকানো/নত করা এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য বিনয়ী হওয়া। বলা হয় কোন কোন তাফসীরকারকের মতে এ উম্মাতের জন্য ৩টি একটি (রুকূ‘) বিশেষ বৈশিষ্ট্য। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَارْكَعُوْا مَعَ الرَّاكِعِيْنَ’‘তোমরা রুকূ‘কারীদের সাথে রুকূ‘ কর’’, আর এ বিষয়টি এজন্য যে, ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের সালাতে রুকূ‘ নেই এবং রুকূ‘ মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তার উম্মাতের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আর রুকূ‘ দ্বারা উদ্দেশ্য ’‘সালাত’’। যেমন আল্লাহ বলেন,وَارْكَعُوْا مَعَ الرَّاكِعِيْنَ’’(হে মারইয়াম (আঃ)!) তুমি মুসল্লীদের সাথে সালাত আদায় কর’’- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ৪৩)।প্রতি রাক্‘আতে রুকূ‘ হওয়ার হিকমাত হলো রুকূ‘ই হচ্ছে সাজদার জন্য ভূমিকা স্বরূপ যা সর্বোচ্চ বিনয়। আর সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) দু’বার হওয়ার উদ্দেশ্য এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। আবার অনেকে অন্য কথাও বলেছেন, তবে এ কথা সুস্পষ্ট এটি একটি ‘ইবাদাত।
রুকু ও সিজদায় ক্ষমা চাওয়ার দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৭১-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৭১-[৪]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللّهُ عَنْهَا قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يُكْثِرُ أَنْ يَقُولَ فِي رُكُوعِه وَسُجُودِه سُبْحَانَكَ اللّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اللّهُمَّ اغْفِرْ لِي يَتَأَوَّلُ الْقُرْآنَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) কোরআনের উপর আমল করে নিজের রুকু ও সিজদায় এই দোয়া বেশী বেশী পাঠ করতেনঃ “সুবহা-নাকা আল্ল-হুম্মা রব্বানা-ওয়াবিহামদিকা আল্ল-হুম্মাগ ফিরলী” - (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি পুত পবিত্র। তুমি আমাদের রব। আমি তোমার গুণগান করছি। হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহ মাফ করে দাও)। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৮১৭, মুসলিম ৪৮৪, আবূ দাঊদ ৮৭৭, নাসায়ী ১১২২, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৯২৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৭১-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রুকু ও সিজদার একটি দোয়া বর্ণনা করেছেন। তিনি বেশি বেশি বলতেন: সুবহানাকা আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগফিরলী। অর্থাৎ তিনি আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করতেন, তাঁর প্রশংসা করতেন এবং ক্ষমা চাইতেন। বর্ণনায় বলা হয়েছে, তিনি কুরআনের উপর আমল করতেন। এখানে রুকু সিজদার দোয়া, আল্লাহর প্রশংসা, তাসবীহ এবং ইস্তিগফার—এসব বিষয় একসঙ্গে এসেছে। সালাতে বান্দা যখন নত হয়, তখন নিজের রবের পবিত্রতা ও নিজের প্রয়োজন মনে করে। এই দোয়া সেই বিনয়ী অবস্থার সঙ্গে সুন্দরভাবে মিলে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রুকু ও সিজদায় আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা করা নবীজির আমল।
- সালাতের ভেতর ক্ষমা চাওয়া মুমিনের বিনয়ের পরিচয়।
- দোয়ার শব্দে তাসবীহ, হামদ ও ইস্তিগফার একসঙ্গে এসেছে।
- কুরআনের নির্দেশকে সালাতে আমলে রূপ দেওয়ার শিক্ষা আছে।
