৪/১৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৭৪-[৭] - ইমামের পর রব্বানা লাকাল হামদ
রুকু - প্রথম অনুচ্ছেদ
রুকূ‘ সালাতের অন্যতম রুকন যা কুরআন, সুন্নাহ ও উম্মাতের ইজমা থেকে প্রমাণিত। রুকূ‘র শাব্দিক অর্থاِلْاِنْحِنَاءُতথা মাথা ঝুকানো/নত করা এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য বিনয়ী হওয়া। বলা হয় কোন কোন তাফসীরকারকের মতে এ উম্মাতের জন্য ৩টি একটি (রুকূ‘) বিশেষ বৈশিষ্ট্য। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَارْكَعُوْا مَعَ الرَّاكِعِيْنَ’‘তোমরা রুকূ‘কারীদের সাথে রুকূ‘ কর’’, আর এ বিষয়টি এজন্য যে, ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের সালাতে রুকূ‘ নেই এবং রুকূ‘ মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তার উম্মাতের জন্য বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আর রুকূ‘ দ্বারা উদ্দেশ্য ’‘সালাত’’। যেমন আল্লাহ বলেন,وَارْكَعُوْا مَعَ الرَّاكِعِيْنَ’’(হে মারইয়াম (আঃ)!) তুমি মুসল্লীদের সাথে সালাত আদায় কর’’- (সূরাহ্ আল বাক্বারাহ্ ২: ৪৩)।প্রতি রাক্‘আতে রুকূ‘ হওয়ার হিকমাত হলো রুকূ‘ই হচ্ছে সাজদার জন্য ভূমিকা স্বরূপ যা সর্বোচ্চ বিনয়। আর সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) দু’বার হওয়ার উদ্দেশ্য এর মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সবচেয়ে নিকটবর্তী হয়। আবার অনেকে অন্য কথাও বলেছেন, তবে এ কথা সুস্পষ্ট এটি একটি ‘ইবাদাত।
ইমামের পর রব্বানা লাকাল হামদ বলার ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৭৪-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৭৪-[৭]
وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِذَا قَالَ الْإِمَامُ سَمِعَ اللّهُ لِمَنْ حَمِدَهٗ فَقُولُوا اَللّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ فَإِنَّهٗ مَنْ وَافَقَ قَوْلُهٗ قَوْلَ الْمَلَائِكَةِ غُفِرَ لَهٗ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ ইমাম যখন “সামি’আলাহু লিমান হামিদাহ” বলবে তখন তোমরা “আল্লাহুম্মা রব্বানা–লাকাল হামদ” বলবে। কেননা যার কথা মালায়িকার কথার সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বের (ছোট) গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৭৯৬, মুসলিম ৪০৯, আবূ দাঊদ ৮৪৮, তিরমিযী ২৬৭, আহমাদ ৯৯২৩, সহীহ আল জামি‘ ৭০৫, সহীহ আত্ তারগীব ৫২০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৭৪-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জামাতে সালাত আদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিকির শেখানো হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ইমাম যখন সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ বলবে, তখন মুসল্লিরা আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ বলবে। এরপর তিনি জানান, যার কথা মালায়িকার কথার সঙ্গে মিলে যাবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করা হবে। এখানে ইমামের অনুসরণ, রুকু থেকে ওঠার পর তাহমীদ, রব্বানা লাকাল হামদ এবং জামাতে সালাতের আদব—এসব বিষয় মূল। হাদিসটি আমাদের শেখায়, সালাতে ইমামের প্রতিটি অবস্থার সঙ্গে মুসল্লির জিকিরের সম্পর্ক আছে। ছোট একটি বাক্যও আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমার আশার দরজা খুলে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমাম সামি’আল্লাহু লিমান হামিদাহ বললে মুসল্লিরা রব্বানা লাকাল হামদ বলবে।
- সালাতে ইমামের অনুসরণ ও ঠিক সময়ে জিকির বলা গুরুত্বপূর্ণ।
- আল্লাহর প্রশংসার বাক্য সালাতের বড় সৌন্দর্য।
- মালায়িকার কথার সঙ্গে মিলের ফজিলত হাদিসে এসেছে।
