৪/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৮৪-[৭] - সালাতে উমামাহকে কাঁধে নেওয়ার ঘটনা
সালাতের মাঝে যে সব কাজ করা নাজায়েজ ও যে সব কাজ করা জায়েজ - প্রথম অনুচ্ছেদ
সালাতে উমামাহকে কাঁধে নেওয়ার হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৯৮৪-[৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৯৮৪-[৭]
وَعَنْ أبىْ قَتَادَةَ قَالَتْ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ يَؤُمُّ النَّاسَ وَأُمَامَةُ بِنْتُ أَبِي الْعَاصِ عَلى عَاتِقِه فَإِذَا رَكَعَ وَضَعَهَا وَإِذَا رَفَعَ مِنَ السُّجُودِ أَعَادَهَا. (مُتَّفق عَلَيْهِ)
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-কে লোকজন নিয়ে সালাত পড়াতে দেখেছি। এমতাবস্থায় নাতনি উমামাহ্ বিনতু আবুল ‘আস (রাঃ) তখন তাঁর কাঁধে থাকত। তিনি (ﷺ) যখন রুকূ‘তে যেতেন উমামাকে নিচে নামিয়ে রাখতেন। আবার যখন তিনি (ﷺ) সাজদাহ্ হতে মাথা উঠাতেন, তাকে আবার কাঁধে উঠিয়ে দিতেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৫৯৯৬, মুসলিম ৫৪৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৮৪-[৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সালাতের একটি বাস্তব দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। আবূ কাতাদা রা. দেখেছেন, নবী صلى الله عليه وسلم লোকজনকে সালাত পড়াচ্ছেন আর তাঁর নাতনি উমামাহ বিনতু আবুল ‘আস তাঁর কাঁধে আছে। তিনি صلى الله عليه وسلم যখন রুকূতে যেতেন, তাকে নিচে নামিয়ে রাখতেন। আবার সিজদা থেকে মাথা উঠালে তাকে কাঁধে উঠিয়ে দিতেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, সালাতের ভেতরে প্রয়োজনীয় ও সীমিত কাজ হতে পারে, তবে রুকূ ও সিজদার মূল অবস্থান ঠিক রাখা হয়েছে। এখানে ভালোবাসা, কোমলতা এবং ইবাদতের ভারসাম্য দেখা যায়। হাদিসটি শিশুদের প্রতি নবী صلى الله عليه وسلم-এর স্নেহও দেখায়, তবে ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত সাধারণ বিধান বানানো ঠিক নয়। মূল শিক্ষা হলো, সালাতের মূল রুকন ঠিক রেখে প্রয়োজনীয় আচরণ করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم সালাতে উমামাহকে কাঁধে নিতেন এবং রুকূতে নামিয়ে রাখতেন।
- সালাতের মূল অবস্থান যেমন রুকূ ও সিজদা ঠিক রাখা জরুরি।
- শিশুর প্রতি কোমলতা ও ইবাদতের আদব একসঙ্গে বজায় থাকতে পারে।
