৪/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৯১-[১৪] - সালাতে সালামের জবাব ইশারায়
সালাতের মাঝে যে সব কাজ করা নাজায়েজ ও যে সব কাজ করা জায়েজ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সালাতে সালামের জবাব হাতের ইশারায়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৯৯১-[১৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৯৯১-[১৪]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قُلْتُ لِبِلَالٍ: كَيْفَ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ يَرُدُّ عَلَيْهِم حِيْنَ كَانُوْا يُسَلِّمُونَ عَلَيْهِ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ؟ قَالَ: كَانَ يُشِيرُ بِيَدِه. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَفِي رِوَايَةِ النَّسَائِيِّ نَحْوَه وَعِوَضُ بِلَالٍ صُهَيْبٌ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বিলালকে প্রশ্ন করলাম, নবী (ﷺ) সালাতরত থাকা অবস্থায় তারা রাসূল (ﷺ)-কে সালাম দিলে তিনি সালামের জবাব কিভাবে দিতেন? বিলাল উত্তরে বললেন, তিনি (ﷺ) হাত দিয়ে (সালামের জবাবে) ইশারা করতেন। (তিরমিযী; নাসায়ীর বর্ণনাও এমনই। তবে তাতে বিলাল-এর স্থলে সুহায়ব (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে বলে উল্লেখ হয়েছে।) [১]
[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৩৬৮, নাসায়ী ১১৮৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৯১-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সালাতরত অবস্থায় সালামের জবাব দেওয়ার একটি পদ্ধতি এসেছে। ইবনু উমার রা. বিলাল রা.-কে জিজ্ঞেস করেন, সালাতের সময় লোকেরা নবী صلى الله عليه وسلم-কে সালাম দিলে তিনি কীভাবে উত্তর দিতেন। বিলাল রা. বলেন, তিনি হাত দিয়ে ইশারা করতেন। বর্ণনার শেষে উল্লেখ আছে, নাসায়ীর বর্ণনায় বিলালের স্থলে সুহায়ব রা.-এর কথা এসেছে। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সালাতের ভেতরে মুখে কথা না বলে প্রয়োজন হলে ইশারার মাধ্যমে জবাব দেওয়া হয়েছে। এটি সালাতের নীরবতা ও শৃঙ্খলা রক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সালাত যেহেতু কুরআন ও যিকিরের সময়, তাই সাধারণ কথার পরিবর্তে সীমিত ইশারার ব্যবহার দেখা যায়। এই বর্ণনা সালাতে আদব, মনোযোগ এবং কথা থেকে বাঁচার বাস্তব উদাহরণ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতরত অবস্থায় সালামের জবাব মুখে না দিয়ে ইশারায় দেওয়ার বর্ণনা এসেছে।
- সালাতের নীরবতা ও মনোযোগ বজায় রাখা জরুরি।
- প্রয়োজনীয় ইশারা সালাতের আদবের ভেতরে থাকতে পারে—এ ঘটনা তা দেখায়।
