৪/১৯. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৯২-[১৫] - সালাতে হাঁচির পর হামদের ফজিলত

সালাতের মাঝে যে সব কাজ করা নাজায়েজ ও যে সব কাজ করা জায়েজ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

সালাতে হাঁচির পর হামদ বলার ঘটনা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৯৯২-[১৫]

وَعَن رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ قَالَ: صَلَّيْتَ خَلْفَ رَسُولِ اللّهِ ﷺ فَعَطَسْتُ فَقُلْتُ الْحَمْدُ لِلّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ مُبَارَكًا عَلَيْهِ كَمَا يُحِبُّ رَبُّنَا وَيَرْضى فَلَمَّا صَلّى رَسُولُ اللّهِ ﷺ انْصَرَفَ فَقَالَ: «مَنِ الْمُتَكَلِّمُ فِي الصَّلَاةِ؟» فَلَمْ يَتَكَلَّمْ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَهَا الثَّانِيَةَ فَلَمْ يَتَكَلَّمْ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَهَا الثَّالِثَةَ فَقَالَ رِفَاعَةُ: أَنَا يَا رَسُولَ اللّهِ. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ: وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِه لَقَدِ ابْتَدَرَهَا بِضْعَةٌ وَثَلَاثُونَ مَلَكًا أَيُّهُمْ يَصْعَدُ بِهَا». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُوْ دَاوُدَ وَالنَّسَائِيّ

রিফা'আহ্ ইবনু রাফি' (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পেছনে সালাত আদায় করলাম। (সালাতের মধ্যে) আমি হাঁচি দিলাম। আমি ক্বালিমায়ে হাম্‌দ অর্থাৎ “আলহাম্দু লিল্লা-হি হাম্‌দান কাসীরান ত্বইয়্যিবাম্‌ মুবা-রাকান ফীহি মুবা-রাকান ‘আলায়হি কামা- ইউহিব্বু রব্বুনা- ওয়া ইয়ার্‌যা-” পাঠ করলাম।সালাত শেষ করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফিরে বললেন, সালাতের মাঝে কথা বলল কে? এতে কেউ কোন কথা বলেনি, তিনি (ﷺ) পুনরায় প্রশ্ন করলেন। তবুও কেউ কোন কথা বলেনি। তৃতীয়বার তিনি (ﷺ) আবার প্রশ্ন করলেন। এবার রিফা‘আহ্ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি। নবী (ﷺ) বললেন, ঐ জাতের শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! ত্রিশের বেশি মালাক (ফেরেশ্‌তা) এ ক্বালিমায়ে হাম্‌দগুলো কার আগে কে উপরে নিয়ে যাবে এ নিয়ে প্রতিযোগিতা করছে।(তিরমিযী, আবু দাঊদ, নাসায়ী) [১]

[১] সহীহ : আত্ তিরমিযী ৪০৪, আবূ দাঊদ ৭৭০, নাসায়ী ৯৩১।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৯২-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রিফা‘আহ ইবনু রাফি‘ রা.-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর পেছনে সালাত আদায় করছিলেন। সালাতের মধ্যে তাঁর হাঁচি আসে এবং তিনি আল্লাহর প্রশংসার একটি বাক্য পড়েন: “আলহামদু লিল্লাহ হামদান কাসীরান তইয়্যিবান মুবা-রাকান ফীহি...”। সালাত শেষে নবী صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করেন, সালাতের মাঝে কে কথা বলেছিল। কেউ উত্তর না দিলে তিনবার প্রশ্ন করেন। রিফা‘আহ রা. জানান, তিনি বলেছেন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, যার হাতে তাঁর প্রাণ, ত্রিশের বেশি ফেরেশতা এই হামদের বাক্য কে আগে উপরে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে প্রতিযোগিতা করছিল। এই হাদিসে আল্লাহর প্রশংসার মর্যাদা দেখা যায়। তবে এটি নির্দিষ্ট ঘটনার বর্ণনা; তাই সাধারণ কথাবার্তার নিয়মের সঙ্গে মিশিয়ে অতিরিক্ত দাবি করা ঠিক নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহর প্রশংসামূলক বাক্যের মর্যাদা অনেক বড়—এই ঘটনায় তা দেখা যায়।
  • সালাত শেষে নবী صلى الله عليه وسلم ঘটনা স্পষ্ট করেছেন এবং রিফা‘আহ রা. সত্য বলেছেন।
  • হাদিস বুঝতে নির্দিষ্ট ঘটনা ও সাধারণ কথার পার্থক্য খেয়াল রাখা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন