৪/১. অধ্যায়ঃ
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, যে ব্যক্তি ওজু থাকা অবস্থায় ওজু করবে, তার জন্য আল্লাহ্ দশটি নেকী রয়েছে লেখবেন।
যঈফ তিরমিযী হা/৫৯ ও ৬১;যঈফ আবুদাঊদ হা/৬২। তাহক্বীক্ব : যঈফ।
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতের চাবি হল সালাত। আর সালাতের চাবি হল পবিত্রতা।
আহমাদ হা/১৪৭০৩;তিরমিযী হা/৪; মিশকাত হা /২৯৪;বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা /২৪৭,২/৪৩। ছহীহ বুখারী হা /৫৮২৭,২/৮৬৭ পৃঃ; ছহীহ মুসলিম হা/২৮৩, ১/৬৬ পৃঃ; মিশকাত হা/২৬;বুখারী তাহক্বীক্ব : উক্ত হাদীসের প্রথমাংশ যঈফ। এর কারণ হল, উক্ত সনদে দুইজন যঈফ রাবী আছে। সুলায়মান বিন করম ও আবু ইয়াহিয়া আল–কাত্তাত। আর দ্বিতীয় অংশ সম্পর্কে পৃথক সনদে ছহীহ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। মূলতঃ জান্নাতের চাবি ‘লা ইলা–হা ইল্লাল্লাহু’।
শাবীব ইবনু আবু রাওহা রাসূল (ﷺ)-এর ছাহাবীগনের এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেন, রাসূল (ﷺ) একদা ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং ‘সূরা রূম’ পড়লেন। কিন্তু তেলাওয়াতে কিছুটা গোলমাল হয়ে গেল। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন তখন বললেন, তাদের কি হয়েছে, যারা আমাদের সাথে সালাত আদায় করে, অথচ উত্তমরূপে পবিত্রতা লাভ করে না? এরাই আমাদের কোরআন পাঠে গোলযোগ সৃষ্টি করে।
তাহক্বীক্ব মিশকাত হা/২৯৫-এর টীকা দ্রঃ; যঈফ নাসাঈ হা/৯৪৭; যঈফুল জামে ‘ হা/৫০৩৪। তাহক্বীক্ব : যঈফ। উক্ত হাদীসের সনদে আব্দুল মালেক বিন উমাইর নামে একজন যঈফ রাবী আছে।
একবার রাসূল (ﷺ) এই পাঁচটি কথা আমার হাতে অথবা তাঁর নিজের হাতে গুনে গুনে বললেন, ‘সুবহানাল্লাহ’ বলা হল পাল্লার অর্ধেক আর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ উহাকে পূর্ণ করে এবং ‘আল্লাহু আকবর’ আসমান ও যমীনের মাঝে যা আছে তাকে পূর্ণ করে। সিয়াম হল ধৈর্যের অর্ধেক এবং পবিত্রতা হল ঈমানের অর্ধেক।
যঈফ তিরমিযী হা/৩৫১৯। তাহক্বীক্ব : যঈফ।
৪/২. অধ্যায়ঃ
নবী করীম (ﷺ) বলেছেন, চক্ষুদ্বয় হল গুহ্যদ্বারের ঢাকনা। সুতরাং চোখ যখন ঘুমায়, তখন ঢাকনা খুলে যায়।
তাহক্বীক্ব দারেমী হা/৭২২। তাহক্বীক্ব : যঈফ। উক্ত হাদীসের পরের হাদীসটি সহীহ (মিশকাত হা/৩১৬)।
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, নিশ্চয় ওজু সেই ব্যক্তির উপর ওয়াজিব, যে কাত হয়ে ঘুমিয়েছে। কেননা যখন কেউ কাত হয়ে ঘুমায়, তখন তার শরীরের বন্ধনসমূহ খুলে যায়।
তিরমিযী হা/৭৭; যঈফুল জামে' হা/২০৫১। তাহক্বীক্ব : যঈফ।
একদা তাঁকে একটা ছাগল হাদিয়া দেওয়া হল এবং তিনি পাতিলে রাখলেন। এমন সময় রাসূল (ﷺ) তাঁর নিকট উপস্থিত হলেন এবং বললেন, পাতিলে কি রাখা হয়েছে হে আবু রাফে’? তিনি বললেন, একটি ছাগল আমাদেরকে হাদিয়া দেওয়া হয়েছে। তা পাতিলে পাক করেছি। রাসূল (ﷺ) বললেন, আমাকে এর একটি বাজু দাও। (আবু রাফে’ বলেন,) আমি তাঁকে একটি বাজু দিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমাকে আর একটি বাজু দাও।আমি তাঁকে আরো একটি বাজু দিলাম। অতঃপর তিনি বললেন, আমাকে আর একটি বাজু দাও তখন আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! ছাগলের মাত্র দুটি বাজু হয়। এটা শুনে তিনি বললেন, তুমি যদি চুপ করে থাকতে তাহলে আমাকে বাজুর পর বাজু দিতে থাকতেন। অতঃপর তিনি পানি চাইলেন এবং কুলি করলেন। তারপর তাঁর অঙ্গুলীসমূহের মাথা ধুয়ে ফেললেন। অতঃপর সালাতের জন্য দাঁড়ালেন এবং সালাত আদায় করলেন। রাসূল (ﷺ) তাঁদের নিকট পুনরায় ফিরে আসলেন এবং তাঁদের নিকট ঠান্ডা গোশত পেলেন। তিনি তা খেলেন। অতঃপর মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং সালাত আদায় করলেন, কিন্তু পানি স্পর্শ করলেন না।
মুসনাদে আহমাদ হা/২৭২৩৯; মিশকাত হা/৩২৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৩০২। তাহক্বীক্ব : যঈফ।
ওমর (রাঃ) বলেন, চুম্বন স্পর্শের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা চুম্বন দিয়ে ওজু কর।
দারেমী হা/৫২৬; মিশকাত হা/৩৩২; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৩০৬, ২/৫৭। তাহক্বীক্ব : যঈফ।
রাসূল (ﷺ) বলেন, প্রত্যেক প্রবাহমান রক্তের কারণেই ওজু করতে হবে।
দারাকুৎনী ১/১৫৭ পৃঃ; মিশকাত হা/৩৩৩, সিলসিলা যঈফাহ হা/৪৭০। তাহক্বীক্ব : যঈফ। ইমাম দারাকুৎনী (রহঃ) বলেন, ওমর ইবনু আব্দুল আযীয তামীমুদ্দারীর নিকট থেকে শুনেননি। আর ইয়াযীদ ইবনু খালেদ ও ইয়াযীদ ইবনু মুহাম্মাদ দু’জনই অপরিচিত রাবী।
৪/৩. অধ্যায়ঃ
রাসূল (ﷺ) যখন পায়খানায় যেতেন, তখন তাঁর আংটিটি খুলে রাখতেন।
আবুদাঊদ হা/১৯; তিরমিযী হা/১৭৪৬; নাসাঈ হা/৫২১৩; মিশকাত হা/৩৪৩; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৩১৬, ২/৬২ পৃঃ। তাহক্বীক্ব : হাদীসটি মুনকার হিসেবে যঈফ।