১/৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১২ - জান্নাতের নিকটবর্তী আমল

যে ঈমানের বদৌলত জান্নাতে পাওয়া যাবে এবং যে ব্যক্তি (আল্লাহর) নির্দেশকে আঁকড়ে ধরবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে

জান্নাতের নিকটবর্তী আমল: ইবাদত, সালাত, যাকাত ও আত্মীয়তা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ طَلْحَةَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو أَيُّوبَ، أَنَّ أَعْرَابِيًّا، عَرَضَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ فِي سَفَرٍ ‏.‏ فَأَخَذَ بِخِطَامِ نَاقَتِهِ أَوْ بِزِمَامِهَا ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ - أَوْ يَا مُحَمَّدُ - أَخْبِرْنِي بِمَا يُقَرِّبُنِي مِنَ الْجَنَّةِ وَمَا يُبَاعِدُنِي مِنَ النَّارِ ‏.‏ قَالَ فَكَفَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَظَرَ فِي أَصْحَابِهِ ثُمَّ قَالَ ‏"‏ لَقَدْ وُفِّقَ - أَوْ لَقَدْ هُدِيَ - قَالَ كَيْفَ قُلْتَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَأَعَادَ ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ تَعْبُدُ اللَّهَ لاَ تُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا وَتُقِيمُ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِي الزَّكَاةَ وَتَصِلُ الرَّحِمَ دَعِ النَّاقَةَ ‏"‏ ‏.‏

আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ আয়্যূব (রাঃ) বলেন, কোনো এক সফরে এক বেদুঈন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সামনে এসে তাঁর উটনীর লাগাম ধরে ফেলল। এ সময় তিনি সফরে ছিলেন। সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! (অথবা হে মুহাম্মদ!) আমাকে এমন কিছু কাজের কথা বলুন যা আমাকে জান্নাতের নিকটবর্তী করে দিবে এবং আগুন (জাহান্নাম) থেকে দূরে রাখবে।’ বর্ণনাকারী বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেমে গেলেন। তিনি সাহাবাদের দিকে তাকালেন। অতঃপর বললেন, ‘নিশ্চয়ই তাকে অনুগ্রহ করা হয়েছে (অথবা তিনি বললেন, তাকে হেদায়াত দান করা হয়েছে)।’ তিনি বললেন, ‘তুমি কী বলেছিলে?’ বর্ণনাকারী বলেন, লোকটি তার কথার পুনরাবৃত্তি করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘আল্লাহর ‘ইবাদত করো, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, সালাত কায়েম করো, যাকাত আদায় করো, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো; এবার উটনীটি ছেড়ে দাও।’

ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২,ইসলামীক সেন্টারঃ ১২

সহীহ মুসলিম হাদিস ১২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক বেদুঈন সফরের পথে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর উটনীর লাগাম ধরে এমন কাজ জানতে চান, যা তাকে জান্নাতের কাছে নিয়ে যাবে এবং আগুন থেকে দূরে রাখবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) তার প্রশ্নকে গুরুত্ব দেন এবং বলেন, তাকে অনুগ্রহ করা হয়েছে বা হেদায়াত দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি বলেন—আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না, সালাত কায়েম করো, যাকাত আদায় করো এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখো। শেষে উটনীটি ছেড়ে দিতে বলেন। এই হাদিসে জান্নাতের নিকটবর্তী আমল হিসেবে তাওহীদ, ইবাদত, সালাত, যাকাত ও আত্মীয়তার সম্পর্ক স্পষ্টভাবে এসেছে। তাই দ্বীনের আমল শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের সাথে সম্পর্ক রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহর ইবাদত ও শিরক বর্জন জান্নাতের পথের মূল ভিত্তি।
  • সালাত কায়েম ও যাকাত আদায় সরাসরি নির্দেশিত আমল।
  • আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি দায়িত্ব।
  • ভালো প্রশ্ন মানুষকে সঠিক আমলের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন