৫/৩১. অধ্যায়ঃ
পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সলাতের সময়
সহিহ মুসলিম : ১২৮০
সহিহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১২৮০
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا بَدْرُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي مُوسَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ أَتَاهُ سَائِلٌ يَسْأَلُهُ عَنْ مَوَاقِيتِ الصَّلاَةِ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ شَيْئًا - قَالَ - فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ وَالنَّاسُ لاَ يَكَادُ يَعْرِفُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالظُّهْرِ حِينَ زَالَتِ الشَّمْسُ وَالْقَائِلُ يَقُولُ قَدِ انْتَصَفَ النَّهَارُ وَهُوَ كَانَ أَعْلَمَ مِنْهُمْ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالْعَصْرِ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ بِالْمَغْرِبِ حِينَ وَقَعَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ ثُمَّ أَخَّرَ الْفَجْرَ مِنَ الْغَدِ حَتَّى انْصَرَفَ مِنْهَا وَالْقَائِلُ يَقُولُ قَدْ طَلَعَتِ الشَّمْسُ أَوْ كَادَتْ ثُمَّ أَخَّرَ الظُّهْرَ حَتَّى كَانَ قَرِيبًا مِنْ وَقْتِ الْعَصْرِ بِالأَمْسِ ثُمَّ أَخَّرَ الْعَصْرَ حَتَّى انْصَرَفَ مِنْهَا وَالْقَائِلُ يَقُولُ قَدِ احْمَرَّتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَخَّرَ الْمَغْرِبَ حَتَّى كَانَ عِنْدَ سُقُوطِ الشَّفَقِ ثُمَّ أَخَّرَ الْعِشَاءَ حَتَّى كَانَ ثُلُثُ اللَّيْلِ الأَوَّلُ ثُمَّ أَصْبَحَ فَدَعَا السَّائِلَ فَقَالَ " الْوَقْتُ بَيْنَ هَذَيْنِ " .
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে সালাতের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি (ﷺ) তাকে সরাসরি জবাব না দিয়ে কাজের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতে চাইলেন। বর্ণনাকারী সাহাবী আবু মূসা (রাঃ) বলেন, প্রথম দিনে উষার আগমনের সাথে সাথেই রসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাত আদায় করলেন। তখনো চারদিকে যথেষ্ট অন্ধকার ছিল, এতটাই যে লোকজন একে অপরকে ভালোভাবে দেখতে পারছিল না এবং একে অপরকে চিনতে অসুবিধা হচ্ছিল। এরপর তিনি (ﷺ) যুহরের আযান দিতে আদেশ করলেন।আবু মূসা (রাঃ) বলেন, যখন আযান দেওয়া হলো, তখন লোকজন বলাবলি করছিল যে দুপুর হয়ে গিয়েছে। অথচ রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের চেয়ে এ বিষয়ে অধিক অবগত ছিলেন। তারপর তিনি (ﷺ) আসরের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় আসরের সালাত আদায় করলেন যখন সূর্য আকাশের বেশ উপরের দিকে ছিল এবং আলো ভালোভাবে বিদ্যমান ছিল। অতঃপর তিনি মাগরিবের সালাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় সালাত আদায় করলেন যখন সবেমাত্র সূর্যাস্ত হয়েছে। এরপর তিনি (ﷺ) ইশার সালাতের আযান দিতে আদেশ করলেন এবং এমন সময় ইশার সালাত আদায় করলেন যখন সান্ধ্যকালীন দিগন্তের লালিমা সবেমাত্র অস্তমিত হয়েছে।পরের দিন সকালে তিনি (ﷺ) ফজরের সালাত বেশ দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, যখন সালাত শেষ করলেন তখন লোকজন বলাবলি করছিল- সূর্যোদয় প্রায় হয়ে গিয়েছে অথবা সূর্যোদয়ের উপক্রম হয়েছে। এরপর তিনি যুহরের সালাত এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, গত দিনের আসরের সালাত যে সময় আদায় করেছিলেন, প্রায় সেই সময় হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আসরের সালাতও এতটা দেরী করে আদায় করলেন যে, সালাত শেষ করার পর লোকজন বলাবলি করতে লাগল - সূর্য রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছে।এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) মাগরিবের সালাতও দেরী করে আদায় করলেন। এতটা দেরী করলেন যে, সান্ধ্যকালীন দিগন্তের লালিমা তখন প্রায় অন্তর্হিত হয়ে যাচ্ছিল। এরপর ইশার সালাতও তিনি দেরী করে আদায় করলেন, এতটাই দেরী করলেন যে রাতের প্রথম তৃতীয়াংশ অতিক্রান্ত হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর সকাল বেলা রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রশ্নকারীকে ডেকে বললেনঃ "এ দুইটি সময়ের মধ্যবর্তী সময়টুকুই হলো সালাতসমূহের সময়।" অর্থাৎ- দুই দিনে আমি একই সময়ে সালাত আদায় না করে একই সালাতের সময়ের মধ্যে কিছু তারতম্য করে আদায় করলাম। এ উভয় সময়ের মধ্যকার সময়টুকুই প্রত্যেক ওয়াক্তের প্রকৃত সময়।
ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ১২৬৭, ইসলামীক সেন্টারঃ ১২৮০
