৫/৩৯. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩২৯ - ইশা সালাতে অপেক্ষার ফজিলত

‘ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা

ইশা সালাতে অপেক্ষা ও ধৈর্যের শিক্ষা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩২৯

وَحَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ الْعَامِرِيُّ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، أَنَّ ابْنَ شِهَابٍ، أَخْبَرَهُ قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ، زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ أَعْتَمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لَيْلَةً مِنَ اللَّيَالِي بِصَلاَةِ الْعِشَاءِ وَهِيَ الَّتِي تُدْعَى الْعَتَمَةَ فَلَمْ يَخْرُجْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَتَّى قَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ نَامَ النِّسَاءُ وَالصِّبْيَانُ فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ لأَهْلِ الْمَسْجِدِ حِينَ خَرَجَ عَلَيْهِمْ «مَا يَنْتَظِرُهَا أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الأَرْضِ غَيْرُكُمْ». وَذَلِكَ قَبْلَ أَنْ يَفْشُوَ الإِسْلاَمُ فِي النَّاسِ .زَادَ حَرْمَلَةُ فِي رِوَايَتِهِ قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَذُكِرَ لِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «وَمَا كَانَ لَكُمْ أَنْ تَنْزُرُوا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَلَى الصَّلاَةِ " . وَذَاكَ حِينَ صَاحَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ .

'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত- যাকে ‘আতামাহ্ বলা হত - আদায় করতে অনেক দেরি করলেন। অনেক রাত পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন না। এমন কি শেষ পর্যন্ত উমর ইবনুল খাত্তাব যেয়ে বললেন, মেয়ে ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আসলেন এবং এসে মসজিদের লোকদেরকে বললেনঃ এ সালাতের জন্য (এত রাতে) তোমরা ছাড়া এ পৃথিবীবাসীদের আর কেউ-ই অপেক্ষা করছে না। এ ঘটনাটি ছিল মানুষের মধ্যে ইসলাম বিস্তার লাভ করার পূর্বের।হারমালাহ্ তার বর্ণনায় এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আমার কাছে বলা হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসে বললেনঃ তোমাদের জন্য এটা ঠিক নয় যে, তোমরা আল্লাহর রাসূলকে সালাতের জন্য তাকিদ করবে। ‘উমর ইবনুল খাত্তাব যখন উচ্চৈ স্বরে ডাকলেন তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ কথাটা বললেন।

ই.ফা.১৩১৬, ই.সে.১৩২৮

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩২৯-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইশার সালাত নিয়ে একটি বিশেষ ঘটনা এসেছে। এক রাতে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইশার সালাত আদায় করতে দেরি করলেন। এত দেরি হলো যে নারী ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছিল। তখন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) বিষয়টি জানালেন। এরপর নবীজি (صلى الله عليه وسلم) মসজিদের লোকদের বললেন, এই সালাতের জন্য সেই রাতে তাঁদের ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ অপেক্ষা করছিল না। এতে ইশা সালাতের জন্য অপেক্ষা করার মূল্য বোঝা যায়। তবে বর্ণনায় এটাও এসেছে যে, নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-কে সালাতের জন্য তাগিদ দেওয়া ঠিক নয়—এই কথাটি হারমালার বর্ণনায় যুহরীর মাধ্যমে উল্লেখ হয়েছে। তাই এখানে মূল শিক্ষা হলো ইশার সালাত, সালাতের জন্য অপেক্ষা, ধৈর্য এবং রাসূলের প্রতি আদব। ইশার নামাজের সময় ও ইশার সালাতে অপেক্ষা—দুই বিষয়ই এই হাদিসে গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইশার সালাতের জন্য অপেক্ষা করা সাহাবিদের ধৈর্য ও আগ্রহের পরিচয় দেয়।
  • সালাতের ব্যাপারে আগ্রহ থাকা ভালো, তবে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি আদব বজায় রাখা জরুরি।
  • মসজিদে সালাতের জন্য অপেক্ষা করা একটি মূল্যবান আমল হিসেবে এই বর্ণনায় ফুটে উঠেছে।
  • ইসলাম বিস্তারের আগের সময়ের একটি বাস্তব ঘটনা এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন