৫/৩৯. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৩৮ - ইশার সময়ে ভারসাম্যের শিক্ষা

‘ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা

ইশার সালাতে দেরি ও সহজতার ভারসাম্য

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩৩৮

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَطَاءٍ أَىُّ حِينٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَنْ أُصَلِّيَ الْعِشَاءَ الَّتِي يَقُولُهَا النَّاسُ الْعَتَمَةَ إِمَامًا وَخِلْوًا قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ أَعْتَمَ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ ذَاتَ لَيْلَةٍ الْعِشَاءَ - قَالَ - حَتَّى رَقَدَ نَاسٌ وَاسْتَيْقَظُوا وَرَقَدُوا وَاسْتَيْقَظُوا فَقَامَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ الصَّلاَةَ .فَقَالَ عَطَاءٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَخَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ الآنَ يَقْطُرُ رَأْسُهُ مَاءً وَاضِعًا يَدَهُ عَلَى شِقِّ رَأْسِهِ قَالَ " لَوْلاَ أَنْ يَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُصَلُّوهَا كَذَلِكَ " . قَالَ فَاسْتَثْبَتُّ عَطَاءً كَيْفَ وَضَعَ النَّبِيُّ ﷺ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ كَمَا أَنْبَأَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَبَدَّدَ لِي عَطَاءٌ بَيْنَ أَصَابِعِهِ شَيْئًا مِنْ تَبْدِيدٍ ثُمَّ وَضَعَ أَطْرَافَ أَصَابِعِهِ عَلَى قَرْنِ الرَّأْسِ ثُمَّ صَبَّهَا يُمِرُّهَا كَذَلِكَ عَلَى الرَّأْسِ حَتَّى مَسَّتْ إِبْهَامُهُ طَرَفَ الأُذُنِ مِمَّا يَلِي الْوَجْهَ ثُمَّ عَلَى الصُّدْغِ وَنَاحِيَةِ اللِّحْيَةِ لاَ يُقَصِّرُ وَلاَ يَبْطِشُ بِشَىْءٍ إِلاَّ كَذَلِكَ .قُلْتُ لِعَطَاءٍ كَمْ ذُكِرَ لَكَ أَخَّرَهَا النَّبِيُّ ﷺ لَيْلَتَئِذٍ قَالَ لاَ أَدْرِي . قَالَ عَطَاءٌ أَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ أُصَلِّيَهَا إِمَامًا وَخِلْوًا مُؤَخَّرَةً كَمَا صَلاَّهَا النَّبِيُّ ﷺ لَيْلَتَئِذٍ فَإِنْ شَقَّ عَلَيْكَ ذَلِكَ خِلْوًا أَوْ عَلَى النَّاسِ فِي الْجَمَاعَةِ وَأَنْتَ إِمَامُهُمْ فَصَلِّهَا وَسَطًا لاَ مُعَجَّلَةً وَلاَ مُؤَخَّرَةً .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, ইশার সালাত যাকে লোকে ‘আতামাহ্ বলে থাকে- পড়ার জন্য আপনার কাছে কোন সময়টা সবচেয়ে পছন্দনীয়? (তা জানতে পারলে) ইমাম হয়ে বা একাকী থেকে আমিও সে সময় ইশার সালাত আদায় করতাম। এ কথা শুনে আত্বা বললেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাসকে বলতে শুনেছি - নবী (ﷺ) একদিন ইশার সালাত আদায় করতে বেশ দেরী করে ফেললেন। এমনকি লোকজন (মসজিদে) ঘুমিয়ে পড়ল। পরে জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়ল।এরপর তারা আবার জেগে উঠলে ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) উঠে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - কে বললেন, সালাতের সময় হয়েছে। আত্বা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন - অতঃপর নবী (ﷺ) আসলেন। আমি যেন এ মুহূর্তেও দেখছি নবী (ﷺ) -এর চুল থেকে পানি টপকে পড়ছে। আর তিনি মাথার একপাশে হাত দিয়ে আছেন। তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে আমি তাদেরকে এ রকম সময়েই (ইশার) সালাত আদায় করার আদেশ করতাম।ইবনু জুরায়জ বলেন- নবী (ﷺ) -এর মাথার উপর কীভাবে হাত রাখার কথা ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে বলেছেন আমি তা আত্বাকে দেখাতে বললাম। তখন ‘আত্বা তার আঙ্গুলগুলো কিছুটা ছড়ালেন এবং আঙ্গুলের পার্শ্বদেশ মাথার পার্শ্বভাগে রাখলেন। অতঃপর আঙ্গুলগুলো মাথার উপর দিয়ে টেনে নীচের দিকে নিয়ে আসলেন। এরূপ এমনভাবে করলেন যে, বৃদ্ধাঙ্গুলি মুখমন্ডলের দিকে কানের পার্শ্ব স্পর্শ করল। অতঃপর কপালের পার্শ্বদেশ ও দাড়ির প্রান্তভাগ পর্যন্ত টেনে নিলেন। এ সময় খুব জোরে চাপ দিচ্ছিলেন না আবার আঙ্গুলগুলো খুব শিথিলও করছিলেন না, শুধু আলতোভাবে টেনে নিচ্ছিলেন।ইবনু জুরায়জ বলেন, আমি আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) সে রাতে ইশার সালাত কত দেরী করেছিলেন বলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। আত্বা বললেন, ইশার সালাত আমি ইমাম হিসেবে কিংবা একা আদায় করি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ রাতে যেভাবে দেরী করে আদায় করেছেন সেভাবে দেরী করে আদায় করাই আমার কাছে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়। তবে লোকের সাথে জামা’আতের ইমাম হয়ে সালাত আদায়কালে কিংবা একাকী আদায়কালে এ সময়টা যদি তোমার জন্য কষ্টকর হয় তাহলে মাঝামাঝি সময়ে আদায় করো। বেশী আগেও আদায় করোনা কিংবা বেশী বিলম্বেও আদায় করোনা।

ই.ফা.১৩২৫, ই.সে.১৩৩৭

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৩৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইশার সালাতের পছন্দনীয় সময় নিয়ে একটি বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) এক রাতে ইশার সালাত দেরিতে আদায় করেন। লোকজন ঘুমিয়ে পড়ে, জেগে উঠে, আবার ঘুমায় এবং আবার জেগে ওঠে। তখন উমর (রাঃ) সালাতের কথা বলেন। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বের হয়ে জানান, যদি উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তাহলে তিনি তাঁদেরকে এভাবে ইশা পড়ার আদেশ করতেন। এরপর আতা বলেন, তিনি ইশার সালাত দেরিতে আদায় করাকে পছন্দ করেন; তবে যদি একা বা জামাতে ইমাম হয়ে এটি কষ্টকর হয়, তাহলে মাঝামাঝি সময়ে পড়তে বলেন—না বেশি আগে, না বেশি দেরিতে। এই হাদিসে ইশার নামাজের উত্তম সময়, দেরিতে ইশা পড়া এবং মানুষের কষ্ট বিবেচনার শিক্ষা স্পষ্ট।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইশার সালাত দেরিতে আদায় করার একটি পছন্দনীয় দিক আছে।
  • উম্মতের কষ্টের কারণে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) এটিকে সবার জন্য বাধ্যতামূলক করেননি।
  • কষ্ট হলে ইশার সালাত মাঝামাঝি সময়ে আদায় করার কথা এসেছে।
  • জামাতে ইমাম হলে মানুষের অবস্থা বিবেচনা করা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন