৫/৩৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৩৭ - ইশার সালাতে অপেক্ষার সুসংবাদ
‘ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা
ইশার সালাতে অপেক্ষা আল্লাহর নিয়ামতের স্মরণ
সহীহ মুসলিম : ১৩৩৭
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩৩৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ كُنْتُ أَنَا وَأَصْحَابِي الَّذِينَ، قَدِمُوا مَعِي فِي السَّفِينَةِ نُزُولاً فِي بَقِيعِ بُطْحَانَ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِالْمَدِينَةِ فَكَانَ يَتَنَاوَبُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عِنْدَ صَلاَةِ الْعِشَاءِ كُلَّ لَيْلَةٍ نَفَرٌ مِنْهُمْ قَالَ أَبُو مُوسَى فَوَافَقْنَا رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَنَا وَأَصْحَابِي وَلَهُ بَعْضُ الشُّغُلِ فِي أَمْرِهِ حَتَّى أَعْتَمَ بِالصَّلاَةِ حَتَّى ابْهَارَّ اللَّيْلُ ثُمَّ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَصَلَّى بِهِمْ فَلَمَّا قَضَى صَلاَتَهُقَالَ لِمَنْ حَضَرَهُ «عَلَى رِسْلِكُمْ أُعْلِمُكُمْ وَأَبْشِرُوا أَنَّ مِنْ نِعْمَةِ اللَّهِ عَلَيْكُمْ أَنَّهُ لَيْسَ مِنَ النَّاسِ أَحَدٌ يُصَلِّي هَذِهِ السَّاعَةَ غَيْرُكُمْ». أَوْ قَالَ «مَا صَلَّى هَذِهِ السَّاعَةَ أَحَدٌ غَيْرُكُمْ». لاَ نَدْرِي أَىَّ الْكَلِمَتَيْنِ قَالَ قَالَ أَبُو مُوسَى فَرَجَعْنَا فَرِحِينَ بِمَا سَمِعْنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ .
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি এবং আমার সাথে যে সব সঙ্গী-সাথী ও বন্ধু-বান্ধব জাহাজে চড়ে এসেছিল সবাই বাক্বী নামক একটি কঙ্করময় স্থানে অবস্থানরত ছিলাম। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাদীনাতে অবস্থান করছিলেন। প্রতি দিন রাতে ‘ইশার সালাতের সময় পালা করে তাদের (আমার সাথে জাহাজে আগত বন্ধু-বান্ধব) একদল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে (তাঁর সাথে ইশার সালাত আদায় করার জন্য) যেত।আবূ মূসা (রাঃ) বলেন, একদিন (পালাক্রমে) আমি ও আমার সঙ্গী-সাথীরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - এর কাছে গেলাম। তিনি সেদিন কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই ‘ইশার সালাতের জন্য আসতে দেরী করলেন। সালাত শেষ হলে উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। আমি তোমাদেরকে কিছু অবহিত করছি। তোমরা সু-সংবাদ গ্রহণ কর। কারণ এটা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নি’আমাত যে, এ মুহূর্তে তোমরা ছাড়া অন্য কোন মানুষই সালাত আদায় করছে না। অথবা তিনি বলেছিলেন, “এ মুহূর্তে তোমরা ছাড়া আর কেউ সালাত আদায় করেনি।” (আবূ মূসা (রাঃ) বলেন,) এ দু’টি কথার মধ্যে কোন কথাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন তা আমার মনে নেই। আবূ মূসা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - এর কাছে যা শুনলাম তাতে অত্যন্ত খুশী হয়ে ফিরে আসলাম।
ই.ফা.১৩২৪, ই.সে.১৩৩৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩৩৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু মূসা (রাঃ) তাঁর ও তাঁর সাথীদের একটি ঘটনা বলেছেন। তাঁরা বাকী নামক স্থানে থাকতেন এবং পালা করে প্রতি রাতে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ইশার সালাতের জন্য যেতেন। এক রাতে আবু মূসা (রাঃ) ও তাঁর সাথীরা গেলেন। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) কোনো কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তাই ইশার সালাত দেরিতে হলো। সালাত শেষে তিনি উপস্থিতদের বললেন, ধীরে থাকো, আমি তোমাদের কিছু জানাচ্ছি। এরপর তিনি সুসংবাদ দিলেন যে, এই সময়ে তাঁদের ছাড়া আর কেউ সালাত আদায় করছে না—এটি তাঁদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামত। এই হাদিসে ইশার সালাতের অপেক্ষা, জামাতে উপস্থিত থাকা এবং আল্লাহর নিয়ামত নিয়ে আনন্দ—সবই এসেছে। আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তাঁরা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কথা শুনে খুশি হয়ে ফিরে আসেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইশার সালাতে উপস্থিত থাকার জন্য সাহাবিরা পালা করে যেতেন।
- সালাতের জন্য অপেক্ষা করা আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে উল্লেখ হয়েছে।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের সুসংবাদ দিয়ে আনন্দিত করেছেন।
- সালাতের ব্যাপারে আগ্রহ মুসলিম জীবনে আনন্দের কারণ হতে পারে।
