৫/৫৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৪২৬ - ফজরের কুনুত ও মজলুমদের জন্য দোয়া

যখন মুসলিমদের ওপর কোন বিপদ আপতিত হয়, তখন সকল সলাতে ‘কুনূ্তে নাযিলাহ্’ পাঠ মুস্তাহাব

ফজরের কুনুত: মজলুমদের জন্য দোয়া ও আল্লাহর সিদ্ধান্ত

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৪২৬

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، وَأَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ أَنَّهُمَا سَمِعَا أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ حِينَ يَفْرُغُ مِنْ صَلاَةِ الْفَجْرِ مِنَ الْقِرَاءَةِ وَيُكَبِّرُ وَيَرْفَعُ رَأْسَهُ «سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ». ثُمَّ يَقُولُ وَهُوَ قَائِمٌ " اللَّهُمَّ أَنْجِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ وَسَلَمَةَ بْنَ هِشَامٍ وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ وَالْمُسْتَضْعَفِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ اللَّهُمَّ اشْدُدْ وَطْأَتَكَ عَلَى مُضَرَ وَاجْعَلْهَا عَلَيْهِمْ كَسِنِي يُوسُفَ اللَّهُمَّ الْعَنْ لِحْيَانَ وَرِعْلاً وَذَكْوَانَ وَعُصَيَّةَ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ». ثُمَّ بَلَغَنَا أَنَّهُ تَرَكَ ذَلِكَ لَمَّا أُنْزِلَ ﴾لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَىْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ فَإِنَّهُمْ ظَالِمُونَ﴿.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফজরের সালাতে কিরাআত শেষ তাকবির দিয়ে রুকূ‘তে গিয়ে রুকূ‘ থেকে যখন মাথা উঠাতেন তখন বলতেনঃ “সামি‘আল্ল-হু লিমান হামিদাহ, রব্বানা-ওয়ালাকাল হাম্‌দ” - (অর্থাৎ - যে আল্লাহর প্রশংসা করে আল্লাহ তাঁর প্রশংসা শুনেন। হে আমাদের প্রভু! সকল প্রশংসা তোমারই জন্য নির্দিষ্ট।)।এরপর তিনি দাঁড়িয়ে বলতেনঃ হে আল্লাহ! ওয়ালীদ ইবনু ওয়ালীদ, সালামাহ্‌ ইবনু হিশাম ও ‘আইয়্যাশ ইবনু আবূ রবী‘আহ্‌ এবং দুর্বল ও নিপীড়িত মু‘মিনদের নাজাত দান করো। হে আল্লাহ! তুমি মুযার গোত্রকে কঠোরহস্তে পাকড়াও করো। আর ইউসুফ (আঃ) -এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মতো দুর্ভিক্ষ দিয়ে তাদের শায়েস্তা করো। হে আল্লাহ! তুমি লিহ্‌ইয়ান, রি‘লান, যাক্‌ওয়ান ও ‘উসাইয়্যাহ্‌ গোত্রের ওপর অভিসম্পাত বর্ষণ করো। কেননা তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়েছে।অতঃপর আমরা জানতে পারলাম যে, আয়াত- “হে নবী! এর ব্যাপারে তোমার কোন করণীয় নেই। আল্লাহ তাদের তাওবাহ্‌ কবূল করুন আর তাদেরকে শাস্তি দান করুন এ ব্যাপারে তিনি পূর্ণ ইখতিয়ারের অধিকারী। কেননা তারা তো যালিম” – (সূরা‌ আ-লি ‘ইমরান ৩: ১২৮)। অবতীর্ণ হওয়ার পর নবী (ﷺ) এভাবে কুনূত পড়া ছেড়ে দিয়েছিলেন।

ই.ফা.১৪১১, ই.সে.১৪২২

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৪২৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ফজরের সালাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি কুনুতের বর্ণনা এসেছে। তিনি কিরাআত শেষ করে রুকুতে যেতেন, রুকু থেকে মাথা উঠিয়ে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ, রব্বানা ওয়ালাকাল হামদ” বলতেন। এরপর দাঁড়িয়ে তিনি ওয়ালিদ ইবনু ওয়ালিদ, সালামা ইবন হিশাম, আইয়্যাশ ইবন আবু রাবিয়াহ এবং দুর্বল নিপীড়িত মুমিনদের নাজাতের জন্য দোয়া করতেন। একই বর্ণনায় কিছু অবাধ্য গোত্রের বিরুদ্ধে কঠোর দোয়ার কথাও এসেছে। পরে জানা যায়, “তোমার এ বিষয়ে কোনো করণীয় নেই...” আয়াত নাজিল হওয়ার পর নবী (صلى الله عليه وسلم) এভাবে কুনুত পড়া ছেড়ে দেন। এই হাদিসে সালাতে দোয়ার গুরুত্ব, মজলুমদের জন্য দোয়া এবং সব বিষয়ে আল্লাহর পূর্ণ ক্ষমতার শিক্ষা রয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাতে মজলুম মুমিনদের জন্য দোয়া করার শিক্ষা আছে।
  • ফজরের কুনুতের একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বর্ণনা এখানে এসেছে।
  • রুকু থেকে ওঠার পর হামদ বলার আমল উল্লেখিত হয়েছে।
  • আয়াত নাজিল হওয়ার পর নবী (صلى الله عليه وسلم) নির্দিষ্টভাবে এভাবে কুনুত পড়া ছেড়ে দেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন