৬/২৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৬৭৯ - সালাতে নূরের দোয়া
রাত্রিকালীণ সলাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম
সালাতে নূরের দোয়া ও রাতের ইবাদত
সহীহ মুসলিম : ১৬৭৯
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৬৭৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَلَمَةَ، عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَبَقَيْتُ كَيْفَ يُصَلِّي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ - قَالَ - فَقَامَ فَبَالَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ وَكَفَّيْهِ ثُمَّ نَامَ ثُمَّ قَامَ إِلَى الْقِرْبَةِ فَأَطْلَقَ شِنَاقَهَا ثُمَّ صَبَّ فِي الْجَفْنَةِ أَوِ الْقَصْعَةِ فَأَكَبَّهُ بِيَدِهِ عَلَيْهَا ثُمَّ تَوَضَّأَ وُضُوءًا حَسَنًا بَيْنَ الْوُضُوءَيْنِ ثُمَّ قَامَ يُصَلِّي فَجِئْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ - قَالَ -فَأَخَذَنِي فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ فَتَكَامَلَتْ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ثَلاَثَ عَشْرَةَ رَكْعَةً ثُمَّ نَامَ حَتَّى نَفَخَ وَكُنَّا نَعْرِفُهُ إِذَا نَامَ بِنَفْخِهِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ فَصَلَّى فَجَعَلَ يَقُولُ فِي صَلاَتِهِ أَوْ فِي سُجُودِهِ " اللَّهُمَّ اجْعَلْ فِي قَلْبِي نُورًا وَفِي سَمْعِي نُورًا وَفِي بَصَرِي نُورًا وَعَنْ يَمِينِي نُورًا وَعَنْ شِمَالِي نُورًا وَأَمَامِي نُورًا وَخَلْفِي نُورًا وَفَوْقِي نُورًا وَتَحْتِي نُورًا وَاجْعَلْ لِي نُورًا أَوْ قَالَ وَاجْعَلْنِي نُورًا» .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি একদা আমার খালা মায়মূনাহ্-এর ঘরে রাত্রিযাপন করলাম আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কীভাবে সালাত আদায় করেন তার প্রতি লক্ষ্য রাখলাম। তিনি (আবদুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস) বলেছেনঃ (রাতে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উঠে প্রস্রাব করলেন এবং মুখমন্ডল ও দু’ হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন। পরে আবার উঠে মশকের পাশে গেলেন, এর বাঁধন খুললেন এবং বড় থালা বা কাষ্ঠ নির্মিত প্লেটে পানি ঢাললেন। পরে হাত দিয়ে তা নীচু করলেন এবং দু’ ওজুর মাঝামাঝি উত্তম ওজু করলেন (অর্থাৎ অত্যধিক যত্নের সাথে ওজু করলেন না, আবার খুব হালকাভাবেও করলেন না)।অতঃপর তিনি (ﷺ) সালাত আদায় করতে দাঁড়ালে আমিও উঠে গিয়ে তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম। তখন তিনি (ﷺ) আমাকে ধরে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করিয়ে দিলেন। মোট তের রাক‘আত সালাত দ্বারা তাঁর সালাত শেষ হল। এরপর তিনি (ﷺ) ঘুমিয়ে পড়লেন। তখন নাক ডাকতে শুরু করল। আমরা নাক ডাকানোর আওয়াজ শুনে তাঁর ঘুমানো বুঝতে পারতাম। তারপর সালাতের জন্য (মসজিদে) চলে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন।সালাতের মধ্যে অথবা সিজদায় গিয়ে তিনি (ﷺ) এ বলে দোয়া করতে থাকলেন “আল্ল-হুম্মাজ্’আল ফী ক্বলবী নূরাওঁ ওয়া ফী সাম’ঈ নূরাওঁ ওয়া ফী বাসারী নূরাওঁ ওয়া ‘আই ইয়ামীনী নূরাওঁ ওয়া ‘আন্ শিমালী নূরাওঁ ওয়া আমা-মী নূরাওঁ ওয়া খলফী নূরাওঁ ওয়া ফাওক্বী নূরাওঁ ওয়া তাহ্তী নূরাওঁ ওয়াজ ‘আল্লী নূরান্ আও ক্ব-লা ওয়াজ্‘আলনী নূরা-” -(অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার হৃদয়-মনে আলো দান কর, আমর শ্রবণ শক্তিতে আলো দান কর, আমার ডান দিকে আলো দান কর, আমার বাম দিকে আলো দান কর, আমার উপর দিকে আলো দান কর, আমার নীচের দিকে আলো দান কর এবং আমার জন্য আলো সৃষ্টি কর। অথবা তিনি বললেনঃ আমাকে আলোতে পরিণত করে দাও।)
ই.ফা. ১৬৬৪, ই.সে. ১৬৭১
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৬৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস রাঃ নবী صلى الله عليه وسلم-এর সালাত দেখার উদ্দেশ্যে মাইমূনা রাঃ-এর ঘরে রাত কাটান। নবী صلى الله عليه وسلم রাতে উঠে প্রয়োজন সারেন, মুখ ও কব্জি পর্যন্ত হাত ধুয়ে ঘুমান। পরে আবার উঠে মশক খুলে পানি নেন এবং মাঝামাঝি ধরনের সুন্দর ওজু করেন। এরপর সালাতে দাঁড়ালে ইবনু আব্বাস রাঃ বাম পাশে দাঁড়ান। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে ডান পাশে দাঁড় করান। ঐ রাতে তাঁর সালাত তের রাকাতে পূর্ণ হয়। পরে তিনি ঘুমান। এরপর সালাতে বা সিজদায় তিনি নূরের দোয়া করেন—হৃদয়, শ্রবণ, দৃষ্টি, ডান-বাম, সামনে-পেছনে, উপর-নিচে নূর চান এবং নিজের জন্য নূর চান। এটি নূরের দোয়ার গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم সালাতের মধ্যে বা সিজদায় নূরের দোয়া করেছেন।
- হৃদয়, কান, চোখ ও চারদিকের জন্য আল্লাহর কাছে নূর চাওয়া হয়েছে।
- ইবনু আব্বাস রাঃ নবী صلى الله عليه وسلم-এর সালাত মনোযোগ দিয়ে দেখেছেন।
- ওজু, সালাত ও দোয়া—এই তিনটি আমল একই ঘটনায় এসেছে।
