৬/৩১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭২১ - ঘুমে তিলাওয়াত জড়িয়ে গেলে
সলাতে তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে অথবা কুরআন পাঠ ও যিক্রে জিহবা জড়িয়ে যেতে লাগলে, ঘুমিয়ে পড়া কিংবা বিশ্রাম নেয়ার আদেশ, যাতে তা কেটে যায়
রাতের সালাতে তিলাওয়াত জড়িয়ে গেলে করণীয়
সহীহ মুসলিম : ১৭২১
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৭২১
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، قَالَ هَذَا مَا حَدَّثَنَا أَبُو هُرَيْرَةَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرَ أَحَادِيثَ مِنْهَا وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنَ اللَّيْلِ فَاسْتَعْجَمَ الْقُرْآنُ عَلَى لِسَانِهِ فَلَمْ يَدْرِ مَا يَقُولُ فَلْيَضْطَجِعْ».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) আমার কাছে আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে থেকে কেউ যদি রাতে সালাত আদায় করতে ওঠে আর (ঘুমের প্রভাবে) তার কোরআন তিলাওয়াত আড়ষ্টতা আসে অর্থাৎ সে কি বলছে সে সম্পর্কে তার কোন চেতনা না থাকে তাহলে যেন সে শুয়ে (ঘুমিয়ে) পড়ে।
ই.ফা. ১৭০৬, ই.সে. ১৭১৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাতের সালাতের সময় ঘুমের প্রভাব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা আছে। রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কেউ রাতে সালাতের জন্য দাঁড়ালে যদি তার জিহ্বায় কুরআন তিলাওয়াত আড়ষ্ট হয়ে যায় এবং সে বুঝতে না পারে কী বলছে, তাহলে সে যেন শুয়ে পড়ে। এখানে মূল বিষয় হলো সচেতন তিলাওয়াত। কুরআন তিলাওয়াত এমন অবস্থায় হওয়া উচিত, যেখানে মানুষ অন্তত নিজের বলা কথার ব্যাপারে সচেতন থাকে। ঘুমের কারণে শব্দ জড়িয়ে গেলে বা বোঝার ক্ষমতা কমে গেলে বিশ্রাম নেওয়া নিরাপদ। এই হাদিস রাতের সালাতের উৎসাহকে অস্বীকার করে না; বরং রাতের ইবাদতে সঠিক মনোযোগ ও শরীরের প্রয়োজন বোঝার শিক্ষা দেয়। ইবাদত যেন ক্লান্তির চাপ না হয়ে যায়, বরং বুঝে-শুনে করা আল্লাহর স্মরণ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘুমে কুরআন তিলাওয়াত জড়িয়ে গেলে শুয়ে পড়া উচিত।
- সালাতে কী বলা হচ্ছে তা বোঝার চেষ্টা জরুরি।
- রাতের ইবাদতে শরীরের বিশ্রামও বিবেচনা করতে হয়।
- সচেতন তিলাওয়াত সালাতের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
