৭/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৩২ - সুকণ্ঠে উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ
কুরআন পাঠের আওয়াজে মাধুর্য সৃষ্টি করা মুস্তাহাব
সুকণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াতের শিক্ষা
সহীহ মুসলিম : ১৭৩২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৭৩২
حَدَّثَنِي بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ، - وَهُوَ ابْنُ الْهَادِ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ " مَا أَذِنَ اللَّهُ لِشَىْءٍ مَا أَذِنَ لِنَبِيٍّ حَسَنِ الصَّوْتِ يَتَغَنَّى بِالْقُرْآنِ يَجْهَرُ بِهِ " .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছেন, মহান আল্লাহ এতটা খুশি হন না যতটা খুশি হয়ে থাকেন সুকণ্ঠের অধিকারী কোন নবীর প্রতি যিনি সুললিত কণ্ঠে ও সশব্দে তা তিলাওয়াত করে থাকেন।
[১] মহান আল্লাহ্ আরশে সমুন্নত (মহান আল্লাহ আরশের উপরে আছেন, তিনি আরশে বসে আছেন বা সমাসীন কথাটি ভুল) সূরা আল বাক্বারাহ্-এর আয়াত নং ২৫৫। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহ্ নিরাকার নন বরং তাঁর আঁকার আছে। তবে কোন প্রাণী বা বস্তুর সাথে তুলনা করা যাবে না।ই.ফা. ১৭১৭, ই.সে। ১৭২৪
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, আল্লাহ এতটা খুশি হন না যতটা খুশি হন সুকণ্ঠের অধিকারী কোনো নবীর প্রতি, যিনি সুললিত কণ্ঠে ও সশব্দে কুরআন তিলাওয়াত করেন। এখানে কুরআন তিলাওয়াতের সৌন্দর্য, স্পষ্টতা এবং কণ্ঠের ভালো ব্যবহার—এই তিনটি দিক সামনে আসে। সুকণ্ঠে কুরআন পড়া মানে কুরআনকে গান বানানো নয়; বরং আদব রেখে সুন্দরভাবে পাঠ করা। হাদিসে ‘সশব্দে’ পড়ার কথাও এসেছে, যা বোঝায় যে এমন তিলাওয়াত শ্রবণযোগ্য ও স্পষ্ট হতে পারে। তবে মূল বিষয় থাকে কুরআনের মর্যাদা। মুমিনের জন্য শিক্ষা হলো—যে কণ্ঠ আল্লাহ দিয়েছেন, তা দিয়ে কুরআনকে ভালোভাবে পাঠ করা, মনোযোগী হওয়া এবং তিলাওয়াতকে সুন্দর আমলে পরিণত করা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন তিলাওয়াত স্পষ্ট ও সুন্দরভাবে করা উচিত।
- সুকণ্ঠ আল্লাহর নেয়ামত; তা কুরআন পাঠে ব্যবহার করা ভালো।
- সশব্দে পাঠ করলে শ্রোতারাও কুরআন শুনে উপকৃত হতে পারে।
- কুরআনের সৌন্দর্য বজায় রেখে তিলাওয়াত করা দরকার।
