১/৪০. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৪ - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর মর্যাদা
শিরক না করা অবস্থায় যার মৃত্যু হয় সে জান্নাতী, মুশরিক অবস্থায় যার মৃত্যু হয় সে জাহান্নামী
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: তাওহীদের কালিমার মর্যাদা
সহীহ মুসলিম : ১৭৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৭৪
حَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَأَحْمَدُ بْنُ خِرَاشٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنِي حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، أَنَّ يَحْيَى بْنَ يَعْمَرَ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا الأَسْوَدِ الدِّيلِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا ذَرٍّ حَدَّثَهُقَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ وَهُوَ نَائِمٌ عَلَيْهِ ثَوْبٌ أَبْيَضُ ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَإِذَا هُوَ نَائِمٌ ثُمَّ أَتَيْتُهُ وَقَدِ اسْتَيْقَظَ فَجَلَسْتُ إِلَيْهِ فَقَالَ " مَا مِنْ عَبْدٍ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ثُمَّ مَاتَ عَلَى ذَلِكَ إِلاَّ دَخَلَ الْجَنَّةَ " . قُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ " وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ " . قُلْتُ وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ قَالَ " وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ " . ثَلاَثًا ثُمَّ قَالَ فِي الرَّابِعَةِ " عَلَى رَغْمِ أَنْفِ أَبِي ذَرٍّ " قَالَ فَخَرَجَ أَبُو ذَرٍّ وَهُوَ يَقُولُ وَإِنْ رَغِمَ أَنْفُ أَبِي ذَرٍّ .
আবূ যার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমি নবী (ﷺ)-এর খিদমাতে উপস্থিত হলাম। সে সময় তিনি ঘুমাচ্ছিলেন এবং তাঁর গায়ের উপর একখানা চাদর ছিল। আবার এসে তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। পরে আবার এসে দেখি, তিনি ঘুম থেকে উঠেছেন। আমি তাঁর নিকটে বসলাম। তারপর তিনি বললেন, যে কোন বান্দা (আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই) বলবে এবং এ বিশ্বাসের উপর মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।আমি আরয করলাম, যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে তবুও? রাসূল (ﷺ) বললেন, যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে। এ কথাটি তিন তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হলো। চতুর্থবারে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, যদিও আবূ যার-এর নাক ধূলিমলিন হয়, (অর্থাৎ আবূ যার-এর অপছন্দ হলেও) রাবী বলেন, আবূ যার (রাঃ) এ কথা বলতে বলতে বের হলেন, যদিও আবূ যার-এর নাক ধূলিমলিন হয়।
ই.ফা. ১৭৫; ই.সে. ১৮১
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ যার (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বসলে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যে বান্দা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে এবং এই বিশ্বাসের উপর মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আবূ যার (রাঃ) বারবার প্রশ্ন করেন, যদি সে ব্যভিচার করে এবং চুরি করে তবুও? নবী (صلى الله عليه وسلم) প্রতিবার বলেন, যদিও সে ব্যভিচার করে ও চুরি করে। শেষে তিনি বলেন, আবূ যার-এর অপছন্দ হলেও। এই হাদিসে কালিমার মর্যাদা ও তাওহীদের গুরুত্ব স্পষ্ট। তবে এখানে পাপকে বৈধ বলা হয়নি। বরং বোঝানো হয়েছে, শিরকমুক্ত ঈমান ও কালিমার বিশ্বাস আখিরাতের জন্য বড় আশা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ শুধু মুখের কথা নয়, বিশ্বাসসহ মৃত্যু জরুরি।
- তাওহীদের কালিমা জান্নাতের আশার বড় ভিত্তি।
- বড় গুনাহ থেকে সতর্ক থাকা এবং তওবা করা জরুরি।
- আল্লাহর রহমতের আশা রাখতে হবে, তবে গুনাহকে হালকা ভাবা যাবে না।
