৭/৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৪৪ - কুরআন শুনতে ফেরেশতাদের আগমন

কুরআন তিলাওয়াতের সময় ‘সাকীনাহ্‌’ বা প্রশান্তি অবতরণ

কুরআন তিলাওয়াত শুনতে ফেরেশতাদের আগমন

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৭৪৪

وَحَدَّثَنِي حَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَحَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، - وَتَقَارَبَا فِي اللَّفْظِ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ الْهَادِ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ خَبَّابٍ، حَدَّثَهُ أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ حَدَّثَهُ أَنَّ أُسَيْدَ بْنَ حُضَيْرٍ بَيْنَمَا هُوَ لَيْلَةً يَقْرَأُ فِي مِرْبَدِهِ إِذْ جَالَتْ فَرَسُهُ فَقَرَأَ ثُمَّ جَالَتْ أُخْرَى فَقَرَأَ ثُمَّ جَالَتْ أَيْضًا قَالَ أُسَيْدٌ فَخَشِيتُ أَنْ تَطَأَ يَحْيَى فَقُمْتُ إِلَيْهَا فَإِذَا مِثْلُ الظُّلَّةِ فَوْقَ رَأْسِي فِيهَا أَمْثَالُ السُّرُجِ عَرَجَتْ فِي الْجَوِّ حَتَّى مَا أَرَاهَا - قَالَ - فَغَدَوْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَيْنَمَا أَنَا الْبَارِحَةَ مِنْ جَوْفِ اللَّيْلِ أَقْرَأُ فِي مِرْبَدِي إِذْ جَالَتْ فَرَسِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ‏"‏ اقْرَإِ ابْنَ حُضَيْرٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَقَرَأْتُ ثُمَّ جَالَتْ أَيْضًا ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ‏"‏ اقْرَإِ ابْنَ حُضَيْرٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَقَرَأْتُ ثُمَّ جَالَتْ أَيْضًا ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ‏"‏ اقْرَإِ ابْنَ حُضَيْرٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَانْصَرَفْتُ. وَكَانَ يَحْيَى قَرِيبًا مِنْهَا خَشِيتُ أَنْ تَطَأَهُ فَرَأَيْتُ مِثْلَ الظُّلَّةِ فِيهَا أَمْثَالُ السُّرُجِ عَرَجَتْ فِي الْجَوِّ حَتَّى مَا أَرَاهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ‏"‏ تِلْكَ الْمَلاَئِكَةُ كَانَتْ تَسْتَمِعُ لَكَ وَلَوْ قَرَأْتَ لأَصْبَحَتْ يَرَاهَا النَّاسُ مَا تَسْتَتِرُ مِنْهُمْ».

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একরাতে উসায়দ ইবনু হুযায়র তার ঘোড়ার আস্তাবলে কোরআন মাজীদ পাঠ করছিলেন। এমন সময় তার ঘোড়া লাফঝাপ দিতে শুরু করল। তিনি (কিছুক্ষণ পর) পুনরায় পাঠ করতে থাকলে ঘোড়াটিও পুনরায় লাফঝাপ দিতে শুরু করল। (কিছুক্ষণ পর) তিনি আবার পাঠ করলেন এবারও ঘোড়াটি লাফ দিল। উসায়দ ইবনু হুযায়র বলেন- এতে আমি আশঙ্কা করলাম যে, ঘোড়াটি (শায়িত ছেলে) ইয়াহিয়াকে পদপিষ্ট করতে পারে। তাই আমি উঠে তার কাছে গেলাম। হঠাৎ আমার মাথার উপর সামিয়ানার মত কিছু দেখতে পেলাম। তার ভিতরে অনেকগুলো প্রদীপের মত জিনিস আলোকিত করে আছে। অতঃপর এগুলো উপরের দিকে শূন্যে উঠে গেল এবং আমি আর তা দেখতে পেলাম না।তিনি বলেছেনঃ পরদিন সকালে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! গতকাল রাতে আমি আমার ঘোড়ার আস্তাবলে কোরআন মাজীদ পাঠ করছিলাম। এমতাবস্থায় আমার ঘোড়াটি হঠাৎ লাফঝাপ দিতে শুরু করল। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে ইবনু হুযায়র! তুমি পাঠ করতে থাকতে। আমি পাঠ করে সমাপ্ত করলাম। ইয়াহিয়া ঘোড়াটির পাশেই ছিল। তাই ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করে ফেলতে পারে আমি আশঙ্কা করলাম (এবং এগিয়ে গেলাম)। তখন আমি মেঘপুঞ্জের মত কিছু দেখতে পেলাম যার মধ্যে প্রদীপের মত কোন জিনিস আলো দিচ্ছিল। এটি উপর দিকে উঠে গেল এমনকি তা আমার দৃষ্টির আড়াল হয়ে গেল।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এসব শুনে বললেনঃ ওসব ছিল মালায়িকাহ্‌ (ফেরেশতাগণ)। তাঁরা তোমার কোরআন শ্রবণ করছিল; তুমি যদি পড়তে থাকতে তাহলে ভোর পর্যন্ত তাঁরা থাকত। আর লোকজন তাঁদেরকে দেখতে পেত। তাঁরা লোকজনের দৃষ্টির আড়াল হত না।

ই.ফা. ১৭২৯, ই.সে. ১৭৩৬

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৪৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উসাইদ ইবন হুযাইর (রাঃ)-এর কুরআন তিলাওয়াতের এক বিস্ময়কর ঘটনা এসেছে। তিনি রাতে ঘোড়ার আস্তাবলে কুরআন পড়ছিলেন। ঘোড়া বারবার লাফাতে থাকে। তিনি তার শিশুর নিরাপত্তার আশঙ্কায় এগিয়ে গেলে মাথার ওপর ছায়ার মতো কিছু দেখেন, যার মধ্যে প্রদীপের মতো আলো ছিল। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বললে তিনি জানান, এগুলো ছিল ফেরেশতা, যারা তার কুরআন শুনছিল। তিনি যদি পড়তে থাকতেন, তাহলে তারা সকাল পর্যন্ত থাকত এবং লোকজন তাদের দেখতে পেত। এই হাদিস কুরআন তিলাওয়াতের মর্যাদা, ফেরেশতাদের কুরআন শ্রবণ এবং রাতের নির্জনে কুরআন পাঠের সৌন্দর্য দেখায়। একই সঙ্গে উসাইদ (রাঃ)-এর সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতাও বর্ণনায় আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কুরআন তিলাওয়াত ফেরেশতাদের শ্রবণের সাথে যুক্ত হতে পারে।
  • রাতে মনোযোগ দিয়ে কুরআন পড়া একটি মর্যাদাপূর্ণ আমল।
  • ইবাদতের মাঝেও সন্তানের নিরাপত্তার দিকে খেয়াল রাখা হয়েছে।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীর অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন