৭/১৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৯৬ - ফজরের পর তাসবিহ ও কুরআন পাঠ
ধীরস্থিরতার সাথে ক্বিরাআত পড়া, অতি দ্রুত পাঠ বর্জন করা এবং এক রাক‘আতে দু’ বা ততোধিক সূরা সংযোজনের বৈধতা
ফজরের পর তাসবিহ ও তিলাওয়াতের আদব
সহীহ মুসলিম : ১৭৯৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৭৯৬
حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ، حَدَّثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، حَدَّثَنَا وَاصِلٌ الأَحْدَبُ، عَنْ أَبِي، وَائِلٍ قَالَ غَدَوْنَا عَلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ يَوْمًا بَعْدَ مَا صَلَّيْنَا الْغَدَاةَ فَسَلَّمْنَا بِالْبَابِ فَأَذِنَ لَنَا - قَالَ - فَمَكَثْنَا بِالْبَابِ هُنَيَّةً - قَالَ - فَخَرَجَتِ الْجَارِيَةُ فَقَالَتْ أَلاَ تَدْخُلُونَ فَدَخَلْنَا فَإِذَا هُوَ جَالِسٌ يُسَبِّحُ فَقَالَ مَا مَنَعَكُمْ أَنْ تَدْخُلُوا وَقَدْ أُذِنَ لَكُمْ فَقُلْنَا لاَ إِلاَّ أَنَّا ظَنَنَّا أَنَّ بَعْضَ أَهْلِ الْبَيْتِ نَائِمٌ .قَالَ ظَنَنْتُمْ بِآلِ ابْنِ أُمِّ عَبْدٍ غَفْلَةً قَالَ ثُمَّ أَقْبَلَ يُسَبِّحُ حَتَّى ظَنَّ أَنَّ الشَّمْسَ قَدْ طَلَعَتْ فَقَالَ يَا جَارِيَةُ انْظُرِي هَلْ طَلَعَتْ قَالَ فَنَظَرَتْ فَإِذَا هِيَ لَمْ تَطْلُعْ فَأَقْبَلَ يُسَبِّحُ حَتَّى إِذَا ظَنَّ أَنَّ الشَّمْسَ قَدْ طَلَعَتْ قَالَ يَا جَارِيَةُ انْظُرِي هَلْ طَلَعَتْ فَنَظَرَتْ فَإِذَا هِيَ قَدْ طَلَعَتْ . فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَقَالَنَا يَوْمَنَا هَذَا - فَقَالَ مَهْدِيٌّ وَأَحْسِبُهُ قَالَ - وَلَمْ يُهْلِكْنَا بِذُنُوبِنَا - قَالَ - فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ قَرَأْتُ الْمُفَصَّلَ الْبَارِحَةَ كُلَّهُ - قَالَ - فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ إِنَّا لَقَدْ سَمِعْنَا الْقَرَائِنَ وَإِنِّي لأَحْفَظُ الْقَرَائِنَ الَّتِي كَانَ يَقْرَؤُهُنَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثَمَانِيَةَ عَشَرَ مِنَ الْمُفَصَّلِ وَسُورَتَيْنِ مِنْ آلِ حم
আবূ ওয়ায়িল (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা আমরা ফাজ্রের সালাত আদায় করার পর 'আবদুল্লাহ ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ)-এর নিকট গেলাম। আমরা দরজার নিকট এসে সালাম করলে তিনি আমাদেরকে (ভিতরে প্রবেশের) অনুমতি দিলেন। আমরা কিছুক্ষণ দরজায় থেমে থাকলাম। তখন বাঁদী বের হয়ে এসে বলল, আপনারা প্রবেশ করছেন না কেন? আমরা ভিতরে প্রবেশ করে দেখলাম তিনি তাসবীহ্ পড়ছেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন, অনুমতি দেয়ার পরও তোমাদের প্রবেশে কী বাধা ছিল? আমরা বললাম না, তেমন কোন বাধা ছিল না, তবে আমরা ভাবলাম, হয়ত ঘরের মধ্যে কে ঘুমিয়ে আছে। তিনি বললেন, তুমি উম্মু 'আব্দের পুত্রের পরিবার সম্পর্কে অলসতার ধারণা করলে।বর্ণনাকারী বললেন, অতঃপর তিনি তাসবীহ পাঠে রত হলেন, শেষে যখন ভাবলেন যে, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে বাঁদী দেখ, সূর্য উদিত হল কি না? বর্ণনাকারী বলেন, সে তাকিয়ে দেখল সূর্য উদিত হয়নি। তিনি আবার তাসবীহ্ পাঠে রত হলেন। শেষে তিনি যখন ভাবলেন, সূর্য উদিত হয়েছে তখন বললেন, হে বাঁদী! দেখ তো সূর্য উদিত হয়েছে কি না? সে তাকিয়ে দেখল যে, সূর্য উদিত হয়েছে। 'আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি এ দিনটি আমাকে ফেরত দিয়েছেন, অধস্তন বর্ণনাকারী মাহদী বলেন, আমার মনে হয় তিনি এও বলেছেনঃ "এবং আমাদের অপরাধের কারণে আমাদের ধ্বংস করেননি।"বর্ণনাকারী বলেন, উপস্থিত লোকদের একজন বলল, গত রাতে আমি (সালাতে) মুফাস্সাল সূরা সম্পূর্ণটা পড়েছি। 'আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কবিতা পাঠের মত দ্রুত আমরা অবশ্যই কোরআনের সূরাসমূহের পাঠ শুনেছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যেসব সূরা (সালাতে) পড়তেন আমি সেসব সূরা মুখস্ত করে রেখেছিঃ মুফাস্সাল সূরাসমূহ থেকে আঠারো সূরা এবং হা-মীম গ্রুপের দুটি সূরা।
ই.ফা. ১৭৮১, ই.সে. ১৭৮৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৯৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ)-এর একটি সকালবেলার আমল দেখা যায়। ফজরের সালাতের পর কিছু লোক তাঁর কাছে গেলে তিনি অনুমতি দেন। তারা দেরি করলে তিনি বলেন, তাঁর পরিবারের ব্যাপারে অলসতার ধারণা করা ঠিক নয়। এরপর তিনি তাসবিহে ব্যস্ত থাকেন এবং সূর্য উঠেছে কি না, তা দেখতে বলেন। সূর্য ওঠার পর তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন যে, তিনি এই দিনটি ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং অপরাধের কারণে ধ্বংস করেননি—বর্ণনাকারীর সন্দেহসহ এ অংশ এসেছে। পরে একজন বলে, সে রাতে পুরো মুফাসসাল এক রাকাতে পড়েছে। ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন, এটি কবিতা পড়ার মতো দ্রুত। তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) যে সূরাগুলো পড়তেন, সেগুলোর মধ্যে মুফাসসাল থেকে আঠারো সূরা ও হা-মীম গ্রুপের দুইটি সূরা তিনি জানেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের পর তাসবিহে সময় দেওয়ার একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত এখানে আছে।
- কুরআন তিলাওয়াতে দ্রুততার বদলে মনোযোগ জরুরি।
- দিন ফিরে পাওয়াকে আল্লাহর দয়া হিসেবে দেখা উচিত।
- সাহাবীরা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সালাতের কিরাআত যত্নে মনে রাখতেন।
