৭/২৫. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৮৩১ - আসরের সালাতে খাওফ

শঙ্কার (ভয়ের) সময় সলাত

আসরের সময় সালাতুল খাওফ: সতর্কতা ও ইবাদত

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৮৩১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يُونُسَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ،قَالَ غَزَوْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَوْمًا مِنْ جُهَيْنَةَ فَقَاتَلُونَا قِتَالاً شَدِيدًا فَلَمَّا صَلَّيْنَا الظُّهْرَ قَالَ الْمُشْرِكُونَ لَوْ مِلْنَا عَلَيْهِمْ مَيْلَةً لاَقْتَطَعْنَاهُمْ . فَأَخْبَرَ جِبْرِيلُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ذَلِكَ فَذَكَرَ ذَلِكَ لَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ - قَالَ - وَقَالُوا إِنَّهُ سَتَأْتِيهِمْ صَلاَةٌ هِيَ أَحَبُّ إِلَيْهِمْ مِنَ الأَوْلاَدِ فَلَمَّا حَضَرَتِ الْعَصْرُ - قَالَ - صَفَّنَا صَفَّيْنِ وَالْمُشْرِكُونَ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقِبْلَةِ - قَالَ - فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَبَّرْنَا وَرَكَعَ فَرَكَعْنَا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ مَعَهُ الصَّفُّ الأَوَّلُ فَلَمَّا قَامُوا سَجَدَ الصَّفُّ الثَّانِي ثُمَّ تَأَخَّرَ الصَّفُّ الأَوَّلُ وَتَقَدَّمَ الصَّفُّ الثَّانِي فَقَامُوا مَقَامَ الأَوَّلِ فَكَبَّرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَكَبَّرْنَا وَرَكَعَ فَرَكَعْنَا ثُمَّ سَجَدَ وَسَجَدَ مَعَهُ الصَّفُّ الأَوَّلُ وَقَامَ الثَّانِي فَلَمَّا سَجَدَ سَجَدَ الصَّفُّ الثَّانِي ثُمَّ جَلَسُوا جَمِيعًا سَلَّمَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ . قَالَ أَبُو الزُّبَيْرِ ثُمَّ خَصَّ جَابِرٌ أَنْ قَالَ كَمَا يُصَلِّي أُمَرَاؤُكُمْ هَؤُلاَءِ .

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে জুহায়নাহ্‌ গোত্রের একদল লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করলাম। তারা আমাদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হ'ল। আমরা যখন যুহরের সালাত আদায় করলাম তখন মুশরিকরা বলল, আমরা যদি একযোগে আক্রমণ করতাম তাহলে মুসলিমদেরকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারতাম। জিব্‌রীল (আঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে অবহিত করলে তিনিও আমাদের অবহিত করেন। তিনি বলেনঃ মুশরিকরা আরো বলেছে যে, মুসলিমদের নিকট শীঘ্রই এমন একটি সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হচ্ছে যা তাদের নিকট তাদের সন্তানের চেয়েও অধিক প্রিয়।অতঃপর বর্ণনাকারী বলেন, আসর সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হলে তিনি আমাদের দু' কাতারে বিভক্ত করেন। আর মুশরিকরা আমাদের ও কেবলার মধ্যখানে অবস্থানরত ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবিরে তাহরীমাহ্‌ বললে আমরাও তাকবির বললাম এবং তিনি রুকূ' করলে আমরাও রুকূ' করলাম। অতঃপর তিনি সিজদাহ্‌ করলে প্রথম কাতারটি সিজদায় গেল। অতঃপর তারা যখন দাঁড়াল তখন দ্বিতীয় কাতারটি সিজদায় গেল।অতঃপর প্রথম কাতার পিছনে সরে গেল এবং পিছনের কাতার সামনে এগিয়ে এসে প্রথম কাতারের স্থানে দাঁড়াল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবির দিলে আমরাও তাকবির দিলাম এবং তিনি রুকূ' করলে আমরাও রুকূ' করলাম। অতঃপর প্রথম কাতার তাঁর সাথে সিজদায় গেল এবং দ্বিতীয় কাতার দাঁড়িয়ে থাকল। দ্বিতীয় কাতার সিজদাহ্‌ করার পর সকলে বসে গেল এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাম ফিরিয়ে সালাত শেষ করলেন। আবুয্‌ যুবায়র (রহঃ) বলেন, এরপর জাবির (রাঃ) বিশেষভাবে বলেন, যেমন তোমাদের বর্তমান কালের শাসকগণ সালাত আদায় করেন।

ই.ফা. ১৮১৬, ই.সে. ১৮২৩

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৮৩১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে জুহাইনা গোত্রের একদল লোকের সঙ্গে যুদ্ধের সময়কার ঘটনা এসেছে। মুসলিমরা যুহরের সালাত আদায় করলে মুশরিকরা বলে, তারা যদি একযোগে আক্রমণ করত, তাহলে মুসলিমদের ক্ষতি করতে পারত। জিবরীল (আঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জানালেন, আর তিনি সাহাবীদের জানালেন। এরপর আসরের সময় হলে নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের দুই কাতারে ভাগ করেন। শত্রু ছিল মুসলিমদের ও কেবলার মাঝখানে। সবাই তাকবির ও রুকুতে একসাথে অংশ নেয়। সিজদার সময় এক কাতার সিজদা করে, অন্য কাতার দাঁড়িয়ে পাহারা দেয়। পরে কাতার বদল হয়। এই হাদিসে সালাতুল খাওফ, জুমা নয় বরং যুদ্ধের সময়ের সালাত, এবং মুসলিমদের কাছে সালাতের ভালোবাসা স্পষ্টভাবে দেখা যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শত্রুর আশঙ্কা থাকলেও সালাত আদায়ের গুরুত্ব বজায় ছিল।
  • কাতার বদলের মাধ্যমে সবাই সালাতে অংশ নেয় এবং পাহারাও থাকে।
  • নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের বিপদের খবর জানিয়ে সতর্ক করেছেন।
  • সালাত মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিল—হাদিসে শত্রুদের কথায় তা এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন