১/৪৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৮৬ - শোকের সময় জাহিলী আচরণ থেকে বাঁচা
(মৃতের শোকে) গাল থাপড়ানো, জামা ছিঁড়ে ফেলা এবং জাহিলী যুগের ন্যায় উচ্চৈঃস্বরে বিলাপ করা হারাম
শোকের আদব: গাল থাপড়ানো ও জাহিলী বিলাপ থেকে বাঁচা
সহীহ মুসলিম : ১৮৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৮৬
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي جَمِيعًا، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُرَّةَ، عَنْ مَسْرُوقٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ أَوْ شَقَّ الْجُيُوبَ أَوْ دَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ " . هَذَا حَدِيثُ يَحْيَى وَأَمَّا ابْنُ نُمَيْرٍ وَأَبُو بَكْرٍ فَقَالاَ " وَشَقَّ وَدَعَا " بِغَيْرِ أَلِفٍ.
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন যে, যে ব্যক্তি গাল থাপড়াবে, জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেলবে অথবা জাহিলী যুগের ন্যায় বিলাপ করবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়। ইবনু নুমায়র ও আবূ বাক্র বলেছেন, “আলিফ” ছাড়াই হবে। অর্থাৎ (আরবী) পরিবর্তে (আরবী) বলেছেন।
[৪৩] কোন মৃতের জন্য বিলাপ করে কাঁদা অবৈধ, আর যদি শুধু অন্তর ফেটে চক্ষু দিয়ে অশ্রু নির্গত হয় তা বৈধ। প্রতিটি ব্যক্তির ওয়াসিয়াত করা উচিত যে, আমার মৃত্যুর পরে তোমরা উচ্চস্বরে কাঁদবে না।ই.ফা. ১৮৭; ই.সে. ১৯৩
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শোকের সময় কিছু কাজ থেকে কঠিনভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি গাল থাপড়াবে, জামা-কাপড় ছিঁড়ে ফেলবে অথবা জাহিলী যুগের মতো বিলাপ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। মৃত্যু বা কষ্টের সময় মানুষের মন ভেঙে যায়, কিন্তু ইসলাম শোকের মধ্যেও সংযম শেখায়। কান্না স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে, তবে নিজের শরীরে আঘাত করা, কাপড় ছেঁড়া বা এমন বিলাপ করা যা জাহিলী আচরণের মতো—এসব থেকে বাঁচতে বলা হয়েছে। এই হাদিস মুসলিমকে ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ এবং আল্লাহর সিদ্ধান্তের সামনে নরম থাকার শিক্ষা দেয়। শোকের সময় ভাষা ও আচরণ দুটিই সামলে রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকের সময় গাল থাপড়ানো ও কাপড় ছেঁড়া থেকে বাঁচতে হবে।
- জাহিলী যুগের মতো বিলাপ করা নিন্দিত আচরণ।
- কষ্টের সময় ধৈর্য ও সংযম রাখা মুসলিমের গুণ।
- মৃত্যুর দুঃখেও ভাষা ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
