৮/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৮৭৩ - খুতবা শোনার আদব ও অনর্থক কাজের সতর্কতা
জুমু‘আর দিনে যে ব্যক্তি (খুত্বাহ্) শ্রবণ করে এবং চুপ থাকে তার মর্যাদা
জুমার খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ও অনর্থক কাজ থেকে বাঁচা
সহীহ মুসলিম : ১৮৭৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৮৭৩
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرَانِ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ فَاسْتَمَعَ وَأَنْصَتَ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ وَزِيَادَةُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ وَمَنْ مَسَّ الْحَصَى فَقَدْ لَغَا».
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি উত্তমরূপে ওজু করার পর জুমু‘আর সালাতে এলো, নীরবে মনোযোগ সহকারে খুতবাহ্ শুনল, তার পরবর্তী জুমু‘আহ্ পর্যন্ত এবং আরো অতিরিক্ত তিন দিনের পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি (অহেতুক) কঙ্কর স্পর্শ করল সে অনর্থক, বাতিল, ঘৃণিত ও প্রত্যাখ্যানযোগ্য কাজ করল।
ই.ফা.১৮৫৮, ই.সে.১৮৬৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৮৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার খুতবা শোনার আদব খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যে ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করে জুমার সালাতে আসে, তারপর মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং নীরব থাকে—তার পরবর্তী জুমা পর্যন্ত এবং অতিরিক্ত তিন দিনের পাপ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। এরপর সতর্ক করে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি অহেতুক কঙ্কর স্পর্শ করল, সে অনর্থক কাজ করল। হাদিসে কঙ্করের কথা এসেছে, কিন্তু মূল শিক্ষা হলো খুতবার সময় মনকে অন্যদিকে না নেওয়া। খুতবা চলার সময় হাত, চোখ বা মনকে ব্যস্ত করে রাখা খুতবার উদ্দেশ্য কমিয়ে দিতে পারে। তাই জুমার খুতবা শোনার সময় নীরবতা, মনোযোগ এবং স্থিরতা জরুরি। জুমার ফজিলত পেতে হলে বাহ্যিক উপস্থিতির সঙ্গে ভেতরের মনোযোগও দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উত্তম ওযু করে জুমায় আসা প্রশংসিত কাজ।
- খুতবার সময় নীরব থাকা ও মনোযোগ দিয়ে শোনা জরুরি।
- অহেতুক কঙ্কর বা অনুরূপ কাজে ব্যস্ত হওয়া নিষেধ করা হয়েছে।
- জুমার আদব রক্ষা পাপ ক্ষমার কারণ হিসেবে এসেছে।
