৯/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৩০ - ঈদের খুতবা ও নারীদের উপদেশ
দু’ ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে যাওয়া এবং পুরুষদের থেকে পৃথক থেকে খুত্বায় শারীক হওয়ার বৈধতা প্রসঙ্গে
ঈদের খুতবার পর নারীদের উপদেশ
সহীহ মুসলিম : ১৯৩০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৯৩০
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَ أَبُو بَكْرٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ، عُيَيْنَةَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، قَالَ سَمِعْتُ عَطَاءً، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، يَقُولُ أَشْهَدُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ لَصَلَّى قَبْلَ الْخُطْبَةِ - قَالَ - ثُمَّ خَطَبَ فَرَأَى أَنَّهُ لَمْ يُسْمِعِ النِّسَاءَ فَأَتَاهُنَّ فَذَكَّرَهُنَّ وَوَعَظَهُنَّ وَأَمَرَهُنَّ بِالصَّدَقَةِ وَبِلاَلٌ قَائِلٌ بِثَوْبِهِ فَجَعَلَتِ الْمَرْأَةُ تُلْقِي الْخَاتَمَ وَالْخُرْصَ وَالشَّىْءَ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি (ﷺ) ঈদের সালাত খুতবার পূর্বেই আদায় করেছেন। সালাতের পর তিনি (ﷺ) খুতবা দিয়েছেন। তাই তিনি (ﷺ) মহিলাদের কাছে এসে তাদেরকে বুঝালেন ও উপদেশ দিলেন এবং তাদেরকে দান সদকার জন্যে আদেশ করলেন। বিলাল (রাঃ) তাঁর কাপড় বিছিয়ে রেখেছিলেন। মহিলাগণ নিজ নিজ আংটি, বালা অন্যান্য জিনিস এতে ঢেলে দিতে লাগল।
ই.ফা. ১৯১৫, ই.সে. ১৯২২
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন আব্বাস (রাঃ) স্পষ্ট ভাষায় সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ঈদের সালাত খুতবার আগে আদায় করেছেন। তারপর তিনি খুতবা দিয়েছেন। হাদিসে আরও এসেছে, নবী (صلى الله عليه وسلم) দেখলেন যে মহিলাদের কাছে তাঁর কথা ঠিকভাবে পৌঁছায়নি। তাই তিনি তাদের কাছে গেলেন, তাদেরকে স্মরণ করালেন, উপদেশ দিলেন এবং সদাকার নির্দেশ দিলেন। বিলাল (রাঃ) তাঁর কাপড় ধরে রেখেছিলেন, আর মহিলারা আংটি, বালা ও অন্য জিনিস তাতে দিতে লাগলেন। এখানে ঈদের খুতবা, নারীদের ইসলামী শিক্ষা এবং সদাকার গুরুত্ব একসঙ্গে এসেছে। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, উপদেশ তখনই বেশি ফলদায়ক হয় যখন তা শ্রোতার কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদের সালাত খুতবার আগে আদায় করা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল হিসেবে এসেছে।
- নারীদের কাছে কথা না পৌঁছালে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাদের কাছে গিয়ে উপদেশ দিয়েছেন।
- সদাকা করার নির্দেশ পেয়ে মহিলারা নিজেদের অলঙ্কার দান করেছেন।
- দ্বীনের কথা বোঝাতে শ্রোতার অবস্থার দিকে খেয়াল রাখা দরকার।
