১০/২. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৬৩ - জুমার খুতবায় বৃষ্টির জন্য দোয়া

পানি প্রার্থনায় দু‘আ প্রসঙ্গে

জুমার খুতবায় বৃষ্টির দোয়া ও অতিবৃষ্টি থামার দোয়া

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৯৬৩

وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَيَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شَرِيكِ بْنِ أَبِي نَمِرٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّجُمُعَةٍ مِنْ بَابٍ كَانَ نَحْوَ دَارِ الْقَضَاءِ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَائِمٌ يَخْطُبُ فَاسْتَقْبَلَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَائِمًا ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَتِ الأَمْوَالُ وَانْقَطَعَتِ السُّبُلُ فَادْعُ اللَّهِ يُغِثْنَا . قَالَ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ أَغِثْنَا اللَّهُمَّ أَغِثْنَا اللَّهُمَّ أَغِثْنَا " .قَالَ أَنَسٌ وَلاَ وَاللَّهِ مَا نَرَى فِي السَّمَاءِ مِنْ سَحَابٍ وَلاَ قَزَعَةٍ وَمَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ سَلْعٍ مِنْ بَيْتٍ وَلاَ دَارٍ - قَالَ - فَطَلَعَتْ مِنْ وَرَائِهِ سَحَابَةٌ مِثْلُ التُّرْسِ فَلَمَّا تَوَسَّطَتِ السَّمَاءَ انْتَشَرَتْ ثُمَّ أَمْطَرَتْ - قَالَ - فَلاَ وَاللَّهِ مَا رَأَيْنَا الشَّمْسَ سَبْتًا - قَالَ - ثُمَّ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ ذَلِكَ الْبَابِ فِي الْجُمُعَةِ الْمُقْبِلَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَائِمٌ يَخْطُبُ فَاسْتَقْبَلَهُ قَائِمًا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَتِ الأَمْوَالُ وَانْقَطَعَتِ السُّبُلُ فَادْعُ اللَّهَ يُمْسِكْهَا عَنَّا - قَالَ - فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ حَوْلَنَا وَلاَ عَلَيْنَا اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ وَبُطُونِ الأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ " . فَانْقَلَعَتْ وَخَرَجْنَا نَمْشِي فِي الشَّمْسِ . قَالَ شَرِيكٌ فَسَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ أَهُوَ الرَّجُلُ الأَوَّلُ قَالَ لاَ أَدْرِي .

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

জনৈক ব্যক্তি জুমু‘আর দিন মাসজিদে নাবাবীতে দারুল ক্বাযার দিকে স্থাপিত দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। এ সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুত্‌বাহ্‌ দিচ্ছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! (অনাবৃষ্টির ফলে) মাল সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জীবিকার পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব আল্লাহ্‌র কাছে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদেরকে বৃষ্টি দান করেন।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’হাত উঠিয়ে দোয়া করলেন, “আল্ল-হুম্মা আগিস্‌না-, আল্ল-হুম্মা আগিস্‌না, আল্ল-হুম্মা আগিস্‌না-” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষণ করুন, আমাদেরকে বৃষ্টি দান করুন।)। [৩ বার] আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! এ সময় আসমানে কোন মেঘ বা মেঘের চিহ্নও ছিল না। আর আমাদের ও সাল্‌’ই পাহাড়ের মাঝে কোন ঘর-বাড়ী কিছুই ছিল না। (ক্ষণিকের মধ্যে) তাঁর পেছন থেকে ঢালের ন্যায় অখণ্ড মেঘ উদিত হলো। একটু পর তা মাঝ আকাশে এলে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল এবং বৃষ্টি শুরু হলো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আল্লাহর শপথ! আমরা সপ্তাহকাল যাবৎ আর সূর্যের মুখ দেখিনি।অতঃপর পরবর্তী জুমু‘আয় আবার এক ব্যক্তি ঐ দরজা দিয়ে প্রবেশ করল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুত্‌বাহ্‌ দিচ্ছিলেন। সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! মাল সম্পদ সব বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে, পথ রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব, আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন বৃষ্টিপাত বন্ধ করে দেন।বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আবার হাত উঠিয়ে দোয়া করলেন, আল্ল-হুম্মা হাওলানা- ওয়ালা- ‘আলায়না-, আল্ল-হুম্মা ‘আলাল আ-কা-মি ওয়ায্‌ যিরা-বি ওয়া বুতূনিল আওদিয়াতি ওয়া মানা-বিতিশ্‌ শাজার” (অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদের অবস্থা পাল্টে দাও আমাদের ওপর এ অবস্থা চাপিয়ে দিও না। হে আল্লাহ! পাহাড়ী এলাকায়, মালভূমিতে মাঠের অভ্যন্তরে ও গাছ-পালা গজানো স্থলে তা ফিরিয়ে নিয়ে যাও।)। এরপর বৃষ্টিপাত বন্ধ হয়ে গেল। আমরা বের হয়ে সূর্য তাপের মধ্যে চলাচল করতে লাগলাম। শারীক বলেন, আমি আনাস ইবনু মালিককে জিজ্ঞেস করলাম, এ ব্যক্তি কি প্রথম ব্যক্তি? আনাস বললেন, আমার জানা নেই।

ই.ফা. ১৯৪৮, ই.সে. ১৯৫৫

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৬৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে জুমার খুতবার সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। এক ব্যক্তি মসজিদে এসে বলল, অনাবৃষ্টির কারণে মাল-সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দুই হাত তুলে তিনবার দোয়া করলেন, “আল্লাহুম্মা আগিসনা।” আনাস (রাঃ) বলেন, তখন আকাশে মেঘ ছিল না; কিন্তু অল্প সময়ে মেঘ উঠে বৃষ্টি শুরু হলো এবং এক সপ্তাহ সূর্য দেখা গেল না। পরের জুমায় আবার এক ব্যক্তি এসে অতিবৃষ্টির কষ্টের কথা বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) দোয়া করলেন, “হে আল্লাহ! আমাদের চারপাশে, আমাদের ওপর নয়।” এরপর বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল। হাদিসটি বৃষ্টির দোয়া, খুতবায় দোয়া এবং আল্লাহর কাছে প্রয়োজন অনুযায়ী চাওয়ার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অনাবৃষ্টির কষ্টে নবী (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর কাছে বৃষ্টির দোয়া করেছেন।
  • অতিবৃষ্টি হলে ক্ষতি দূর করার জন্যও দোয়া করা হয়েছে।
  • জুমার খুতবার সময় মানুষের প্রয়োজনের কথা সামনে এসেছে।
  • দোয়ায় আল্লাহর কাছে ভারসাম্যপূর্ণ কল্যাণ চাওয়ার শিক্ষা আছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন